শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান পুনর্নির্মাণে বাধা, দখলচেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান পুনর্নির্মাণে বাধা, দখলচেষ্টার অভিযোগ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিরবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানঘর পুনর্নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যবসায়ী নেতার বিরুদ্ধে রাস্তা নির্মাণের অজুহাতে জায়গা দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
গত ৮ই এপ্রিল রাতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে বাজারের অন্তত ৫-৬টি দোকানঘর পুড়ে যায়। এর মধ্যে জেলা পরিষদ থেকে লিজ নেওয়া দোকানও রয়েছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ব্যবসায়ীরা যখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই শুরু হয়েছে নতুন সংকট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর পেছনে দড়ি টানিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এখানে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলে পুনর্নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে ওই স্থানে নিরামিষ রান্না করে আনন্দ উদযাপন করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুসারীরা।
জানা গেছে, প্রায় চার দশক আগে স্থানীয় আবুল হোসেন বাবুল পাটোয়ারী জেলা পরিষদের কাছ থেকে জমিটি লিজ নিয়ে সেখানে দোকান নির্মাণ করেন। বর্তমানে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানগুলোর একটিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
লিজগ্রহীতা বাবুল পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত দোকান পুনর্নির্মাণের জন্য গত ১০ই এপ্রিল কাজ শুরু করতে গেলে ইউসুফ পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তি বাধা দেন এবং জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। তার অভিযোগ, “দোকান পুড়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট দেয়ালও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
পুনর্নির্মাণের জন্য আনা নির্মাণসামগ্রীও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি দোকানের পেছনের ডোবায় দড়ি টানিয়ে রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার চাইলে রাস্তা করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এভাবে বাধা দেওয়া ঠিক নয়।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, “আগুনে সবকিছু হারিয়ে নতুন করে শুরু করতে চাচ্ছি। কিন্তু বিভিন্ন হুমকি ও বাধার কারণে এখনো কাজ শুরু করতে পারিনি।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ পাটোয়ারী নিজেকে বাজার ব্যবসায়ী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করে বলেন, “এটি সরকারি জায়গা। আগে এখানে রাস্তা ছিল, যা দখল করে দোকান করা হয়েছে। বাজারের স্বার্থে আমরা এখানে আবার রাস্তা নির্মাণ করবো।”
এদিকে বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির খান বলেন, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি জেলা পরিষদ থেকে বৈধভাবে লিজ নেওয়া। তিনি বলেন, “লিজ থাকলে দোকান মেরামত করা স্বাভাবিক বিষয়। আর লিজ না থাকলে বিষয়টি সরকারিভাবে নিষ্পত্তি হবে। তবে একটি চক্র কেন পুনর্নির্মাণে বাধা দিচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।”
তিনি আরও জানান, বাজারে একটি নির্বাচিত ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটি রয়েছে এবং সেই কমিটির পক্ষ থেকে কেউ এ ধরনের বাধা দেয়নি। ইউসুফ পাটোয়ারী নিজেকে কমিটির নেতা হিসেবে দাবি করলেও তার এ দাবির কোনো ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’