শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে আঁধা রাতে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
ফরিদগঞ্জে আঁধা রাতে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জে জোর করে সম্পত্তি দখল করে টিনসেট ঘরে নির্মাণ।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের আষ্টা খাজুরিয়া বাজার সড়কের কামার বাড়ির সামনে খলিলের দোকান সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত জায়গা দখল করে সেখানে অস্থায়ী টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, পশ্চিম ষোলদানা হাজী বাড়ির মৃত মফিজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবুল কাশেমের নামে রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি তার বড় ভাইয়ের তিন ছেলে আজিজ, মহিউদ্দিন ও মহিন রাতের আঁধারে দখল করে নেয়। এ সময় তারা সেখানে একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে।
খবর পেয়ে ঢাকায় অবস্থানরত আবুল কাশেম দ্রুত বাড়িতে এসে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাবার মৃত্যুর পর চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা হয় এবং অধিকাংশ সম্পত্তি সংশ্লিষ্টদের নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। “আমার পাঁচ শতক জমি রয়েছে ওই স্থানে। আমি ঢাকায় ব্যবসার কারণে বাড়িতে কম থাকি। সেই সুযোগে আমার ভাতিজারা জোর করে জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তারপরও তারা আইন উপেক্ষা করে এ দখল কার্যক্রম চালিয়েছে।”
 নিজের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আজিজ, মহিউদ্দিন ও মহিন দাবি করেন, এটি তাদের দাদার সম্পত্তি। তাদের বক্তব্য, “পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য বণ্টন না হওয়ায় আমরা বহুবার রাস্তার পাশের জমি পুনর্বণ্টনের দাবি জানিয়েছি। কেউ তা আমলে না নেওয়ায় আমরা দখলে নিয়েছি।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবুল কাশেমের বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিকভাবে সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় এবং ওই জমি তার নামে রেকর্ডভুক্ত। হঠাৎ করে ভাতিজাদের এ দাবি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে তারা মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় আবুল কাশেম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’