শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে অসহায় মহসিন মিয়াকে ঘর উপহার দিলো জামায়াতে ইসলামী

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম
হাজীগঞ্জে অসহায় মহসিন মিয়াকে ঘর উপহার দিলো জামায়াতে ইসলামী

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার অসহায় মোঃ মহসিন মিয়ার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ডাঃ সাঈদুল হক পাটোয়ারীর সার্বিক সহযোগিতায় মানবিক এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

জানা যায়-দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে পরিবারসহ মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন মহসিন মিয়া। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত তার বসতঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সম্প্রতি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে মহসিন মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর বি. এম. কলিমুল্ল্যাহ ভূঁইয়া, দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ মনির হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা খোরশেদ আলম, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি শাহ আলমসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

Model Hospital

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন-সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার প্রকৃত শিক্ষা। একটি নিরাপদ বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার—এই বিশ্বাস থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্থানীয় এলাকাবাসী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন-এ ধরনের সহায়তা অসহায় মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে। তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত মহসিন মিয়া বলেন-আমি অনেকদিন ধরে খুব কষ্টে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আজ একটি ভালো ঘর পেলাম। যারা আমাকে এই ঘর দিয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’