শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে সচেতনতা অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
হাজীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে সচেতনতা অভিযান

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধ, রোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে হাজীগঞ্জ উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট টিম। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টা থেকে পরিচালিত এ মানবিক কার্যক্রমে হাসপাতালজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা, মাইকিং এবং রোগীদের সরাসরি পরামর্শ প্রদান করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষের শেষ ভরসার জায়গা হলেও একটি অসাধু দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে অসহায় রোগী ও স্বজনদের বিভ্রান্ত করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কার্যক্রম চলাকালে হ্যান্ড মাইকে রোগীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, কোনো দালালের প্রলোভনে না পড়ে সরাসরি হাসপাতালের সেবাকেন্দ্র থেকে তথ্য নিতে এবং সন্দেহভাজন দালাল দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে। একইসঙ্গে ঘোষণা দেওয়া হয়, সতর্কতার পরও দালালচক্র সক্রিয় থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযুক্তদের নাম ও ছবি হাসপাতালের গেইটে টানিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা হবে।

গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী সাইফুল ইসলাম সিফাত বলেন, “চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিছু অসাধু দালালের কারণে সাধারণ মানুষ যেন প্রতারণার শিকার না হয়, সেজন্য আমরা মাঠে নেমেছি। শুরু করেছি সরকারি হাসপাতাল থেকে, প্রয়োজনে প্রাইভেট হাসপাতালের অনিয়ম ও দালালচক্রের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান চলবে। মানবতার প্রশ্নে কোনো আপস নয়।”

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, “একজন অসহায় রোগী যখন হাসপাতালে আসে, তখন সে মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকে। সেই মুহূর্তে প্রতারণা সবচেয়ে বড় অমানবিকতা। তাই সমাজের সচেতন মানুষদেরও দালালদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

উক্ত কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহমেদ তানভীর হাসান, হাজীগঞ্জ উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম সিফাত, দলনেতা ইয়াসিন আরাফাত, উপদলনেতা মোঃ ইউসুফ, এএসআই মাজেদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মানবতার পক্ষে, দালালমুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার দাবিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’