শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দালালমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে চাঁদপুরে ভূমি মেলা শুরু ১৯ মে

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
দালালমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে চাঁদপুরে ভূমি মেলা শুরু ১৯ মে

ভূমি মেলা উদযাপন উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চাঁদপুরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। এ সময় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ উপস্থিত ছিলেন।

ভূমি মেলা উদযাপন উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চাঁদপুরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত।
রোববার (১৭ মে)- দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে এই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস কনফারেন্সে আসন্ন ‘ভূমি মেলা ২০২৬’-এর সার্বিক প্রস্তুতি, মেলার উদ্দেশ্য, নাগরিকদের জন্য প্রদেয় ভূমিসেবা এবং কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তি রয়েছে। এই ভূমি মেলার মাধ্যমে আমরা চাই মানুষ যেন সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার সমাধান জানতে পারে। নামজারি, খতিয়ান, পর্চা, ভূমি উন্নয়ন কর, মিউটেশনসহ বিভিন্ন সেবা এক স্থানে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণকে সচেতন করতে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে ভূমি সংক্রান্ত আধুনিক সেবা সম্পর্কে জানাতে এটি সহায়ক হবে। আমরা চাই মানুষ দালালচক্র এড়িয়ে সরাসরি সরকারি সেবা গ্রহণে অভ্যস্ত হোক।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এ মেলার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), একরামুল ছিদ্দিক, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দপ্ত রনি, চাঁদপুরের সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ভূমি মেলা ২০২৬ আগামী ১৯, ২০ ও ২১ মে চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ১৯ মে সকাল ৯ টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে গিয়ে সমবেত হবে। একই দিন সকাল ১০টায়, সারাদেশে একযোগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন করবেন। মেলায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, পরামর্শ ও তথ্য প্রদান করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’