শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া নুরুল আজাদ কলেজে অবসর জনিত শিক্ষক-কর্মচারীকে বিদায় সংবর্ধনা

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
কচুয়া নুরুল আজাদ কলেজে অবসর জনিত শিক্ষক-কর্মচারীকে বিদায় সংবর্ধনা

কচুয়ার নুরুল আজাদ করেজের অবসর জনিত শিক্ষক ও কর্মচারী। বিদায়ী উপলক্ষ্যে ক্রেস্ট প্রদান করছেন,কলেজের গবর্নিং বডির সভাপতি ফয়সাল আজাদ রুবেলসহ অন্যান্যরা।

কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মনপুরা বাতাবাড়িয়া নূরুল আজাদ কলেজে ১ শিক্ষক ও ২ জন চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীর অবসর জনিত বিদায় উপলক্ষ্যে বিদায় সংবর্ধনা দিলেন, কলেজ গভর্নিং বডি, কলেজ কর্তৃপক্ষ, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাতার সন্তান ও নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি মোঃ ফয়সাল আজাদ রুবেল।

এসময় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সহকর্মী শিক্ষকগণ, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অবিভাবকগণ কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে অবসর জনিত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম মীর ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী অফিস সহায়ক মোঃ আব্দুর রব ও নৈশ প্রহরী আবুল হোসেন ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। পরে গাড়ি দিয়ে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেন।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও ক্রীড়া শিক্ষক কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হান্নান মজুমদার, রফিকুল ইসলাম মাস্টার, মোঃ ইউনুস মাস্টার, মোঃ দেলওয়ার হোসেন প্রধান, কলেজ গবর্নিং বডির সদস্য মো.জালাল হোসেন, সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম।

Model Hospital

বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি সুন্দর ও আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো দিয়ে নয়, সুশিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই সম্ভব। নূরুল আজাদ কলেজকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিদায়ী মুহূর্তে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদায়ী ব্যক্তিরা কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান। উপস্থিত সকলে তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’