শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা সপ্তাহ মেলার উদ্বোধন

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম
কচুয়ায় ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা সপ্তাহ মেলার উদ্বোধন

কচুয়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা সপ্তাহ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সামনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা,বেলুন উড়ানো ও ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মেলায় নামজারি, খতিয়ান, পর্চা, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও সেবা দেওয়া হচ্ছে। মেলার উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

তিনি ভূমির সেবা নিয়ে বক্তব্যে বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভূমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এখন মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমিয়ে এনেছে। মেলায় এসে মানুষ সরাসরি নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

Model Hospital

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা বিএনপির খায়রুল আবেদীন স্বপন বলেন, ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি সেবা। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং সেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এ ধরনের মেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুলো সেবার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,কচুয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ তরিকুল ইসলাম তরিক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মাস্টার দেওয়ান সিরাজুল ইসলাম,পৌর জামায়াতের আমির মাও.জাকির উল্লাহ শাহজলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সনতোষ চন্দ্র সেন প্রমুখ। এসময় উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় সাধারণ মানুষের জন্য ২টি পৃথক সেবা স্টল চালু করা হয়েছে। এগুলো হলো নামজারি সেবা স্টল, ভূমি আড্ডা স্টল, সেবা বুথ স্টল এবং ভূমি উন্নয়ন কর সেবা স্টল। এসব স্টলে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, পরামর্শ ও তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। অনেকেই মেলায় এসে সরাসরি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও নামজারির আবেদন করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলমান এ মেলায় প্রতিদিন সাধারণ মানুষের জন্য ভূমি সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান ও পরামর্শ সেবা অব্যাহত থাকবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’