শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
চাঁদপুরে সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের দাসাদী গ্রামে সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও নির্মাণকাজ থামেনি। বরং শ্রমিক সংখ্যা বাড়িয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, কল্যাণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দাসাদী এলাকার ডিলারের বাড়ির মোড় সংলগ্ন স্থানে শামসুল হক জমাদারের ছেলে প্রভাবশালী খোকন জমাদার সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১১ মে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে লাল কাপড় টানিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ভূমি কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশ অমান্য করে খোকন জমাদার নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নির্মাণকাজ চলমান থাকার সত্যতা পান। সেখানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ দেখা যায়। ইতোমধ্যে ভবনের নিচতলার বেশ কিছু অংশে ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিপি সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণের বিষয়ে শ্রমিকরা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

Model Hospital

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রভাবশালী খোকন জমাদার আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে সরকারি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের কাজ বন্ধ রেখে কাগজপত্রসহ অফিসে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’