শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত পারভীন সুলতানা লাভলী

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৩৮ এম
শাহরাস্তিতে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত পারভীন সুলতানা লাভলী
শাহরাস্তি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর যাচাই-বাছাইয়ে সহকারী শিক্ষক ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন পারভীন সুলতানা লাভলী। তিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিজমেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের সভাপতিত্বে গঠিত আট সদস্যের উচ্চপর্যায়ের যাচাইকারী বোর্ড চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা, শিক্ষকতা জীবনের বিভিন্ন অর্জন, তথ্য-উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট মূল্যায়ন শেষে তাকে উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ পরিবেশে এবারের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিদ্যালয়ে অবদান, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, শিক্ষাদানের দক্ষতা এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে পারভীন সুলতানা লাভলী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে পারভীন সুলতানা লাভলী বলেন, এই স্বীকৃতি আমার শিক্ষকতা জীবনের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের শ্রম, নিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার মূল্যায়ন হওয়ায় আমি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে চাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষকদের উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে। পারভীন সুলতানা লাভলী তার দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই অর্জন অন্য শিক্ষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমরা আশা করছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, যাচাইকারী বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিটি প্রার্থীর তথ্য-উপাত্ত মূল্যায়ন করেছে। শিক্ষাদানে দক্ষতা, বিদ্যালয়ে সক্রিয় ভূমিকা এবং মৌখিক পরীক্ষায় সন্তোষজনক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই পারভীন সুলতানা লাভলীকে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এদিকে স্ত্রীর এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, “তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সততার স্বীকৃতি মিলেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে আসছেন। আমি তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করি।
উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের এ গৌরবময় সাফল্যে পারভীন সুলতানা লাভলীকে নিজমেহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন অভিনন্দন জানিয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’