শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এবারের ঈদে নৌপথে যাত্রীসেবায় সরকার সবোর্চ্চ সচেষ্ট ছিল : নৌ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
এবারের ঈদে নৌপথে যাত্রীসেবায় সরকার সবোর্চ্চ সচেষ্ট ছিল : নৌ প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেছেন, এবারের ঈদে নৌপথে যাত্রীসেবায় সরকার সবোর্চ্চ সচেষ্ট ছিল। বড় বড় সবগুলো ঘাটে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের কোনও সমস্যা না হয়। তাই যাত্রীরা নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। এছাড়া ঘাটে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোর সমাধানেও কাজ চলছে।’

রোববার (৩১ মে) সকালে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন ।

প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান আরও জানান, চাঁদপুর আধুনিক নৌটার্মিনালের কিছু অংশ কাজ করা হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছে। তাই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করা হবে। এর ফলে চাঁদপুর নদী বন্দর তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে।’

তিনি বলেন, ‘পন্টুন আধুনিকায়ন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথ সচল রাখলে নৌপথ আবারও তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উচ্চগতির নৌযানের জন্য সরকার কাজ করছে।’ এছাড়া চলতি কালবৈশাখী ঝড়ে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করার নির্দেশ দেন তিনি।

Model Hospital

বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টিমার সার্ভিসের বিষয়ে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টিমার সার্ভিস নতুন করে চালু করা যায় কি না, তাও ভেবে দেখছে সরকার। তবে শতবছরের পুরনো স্টিমার মেরামত করে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে কি না, এটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিম, বিআইডব্লিউটিএ’র (সদস্য প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম, পরিচালক (নিরীক্ষা) গোলাম ফারুক চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আতিকুল ইসলাম, চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবুলাল বৈদ্য প্রমুখ।

এর আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান চাঁদপুরে পৌঁছালে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’