শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদরে পিএমকের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৫ শতাধিক মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
চাঁদপুর সদরে পিএমকের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৫ শতাধিক মানুষ

চাঁদপুর সদর শাখা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে)-এর উদ্যোগে অতিদরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) চাঁদপুর সদর শাখা কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৫ শতাধিক নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

সকাল থেকে শুরু হওয়া ক্যাম্পে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, চর্ম ও যৌনরোগ, সার্জারি এবং চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। সেবাদানকারী চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন ডা. লিমন আহমেদ, ডা. রোসল রানা, ডা. ইবরাহিম, ডা. জাহিদ ও ডা. আব্দুল্লাহ আল মারুফ।

পিএমকের চাঁদপুর সদর শাখার ব্যবস্থাপক মো. আতিকুর রহমান ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।

Model Hospital

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিসাবরক্ষক শিরিয়া আক্তারসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।উদ্বোধনী বক্তব্যে মো. আতিকুর রহমান বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। পিএমকে সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ ক্যাম্পের মাধ্যমে রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরামর্শ, প্রেসক্রিপশন, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চক্ষু রোগীদের জন্য পাওয়ারের চশমা ও চোখের ড্রপ বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, “১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে) ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির আওতায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, চক্ষু চিকিৎসা, গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধ বিতরণসহ নানা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই আমাদের অঙ্গীকার।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক নারী উপকারভোগী বলেন, “বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চোখের চিকিৎসাসেবা পেয়ে আমরা অত্যন্ত উপকৃত হয়েছি। এ ধরনের উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের জন্য বড় সহায়তা।অপর এক বয়োজ্যেষ্ঠ সেবাগ্রহীতা বলেন, “একই স্থানে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়া আমাদের জন্য বিরল সুযোগ। চিকিৎসকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগের কথা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। এতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর প্রধান নির্বাহী কামরুন্নাহার, উপ-প্রধান নির্বাহী দেওয়ান ফয়সাল এবং পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ও হেড অব হেলথ ডা. কাজী সুদীপ্তা কবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা জানান, সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’