শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:২২ পিএম
চাঁদপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন. জামিউল হিকমা।

‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন. জামিউল হিকমা। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ধূমপানের তুলনায় পরোক্ষ ধূমপান মানবস্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দর জীবন গঠনে তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি পরিহারের কোনো বিকল্প নেই।

Model Hospital
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কর্মসংস্থান, বিদেশে পাঠানোর সুযোগ, কনসার্ট আয়োজনসহ বিভিন্ন প্রলোভনে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী এবং চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত রনি, চাঁদপুর সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রাহাত আমিন পাটওয়ারী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপন রায়, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সে হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮ জন মানুষ তামাকজনিত কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। দেশে প্রায় চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে তামাকের সংস্পর্শে আসে। বর্তমানে দেশে প্রায় এক কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন।

এ ছাড়া প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মানুষ গণপরিবহনে, ৮১ লাখ মানুষ কর্মস্থলে এবং চার কোটিরও বেশি মানুষ নিজ বাসায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। অন্যদিকে জর্দা, গুল, সাদাপাতা ও খৈনিসহ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ। দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ৪৬ শতাংশই তামাক ব্যবহারকারী। পাশাপাশি দেশের মোট মৃত্যুর ২ দশমিক ৫১ শতাংশের জন্য পরোক্ষ ধূমপান দায়ী বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’