শাহরাস্তিতে সন্ধ্যার পর উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরির দায়ে ৫ কিশোর আটক, মুচলেকায় মুক্তি
শাহরাস্তিতে পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে সন্ধ্যার পর উদ্দেশ্যহীন ও সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় ৫ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের অভিভাবকদের লিখিত মুচলেকার ভিত্তিতে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোর গ্যাং কালচার প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১০ জুন) রাতে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম শাহরাস্তি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ও মেহের স্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে এসআই (নিঃ) আব্দুল কুদ্দুছ সরকার, এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ আল আমিন ভূঁইয়া ও এসআই (নিঃ) মোঃ আইয়ুব খাঁন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অংশ নেন।

অভিযানকালে সন্ধ্যার পর পড়াশোনা বাদ দিয়ে অযথা ঘোরাফেরা করার সময় ৫ কিশোরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের মধ্যে ৩ জন অষ্টম শ্রেণি এবং ২ জন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তবে ওই সময় বাইরে অবস্থানের বিষয়ে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

খবর পেয়ে আটককৃতদের অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত হন। তারা সন্তানদের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের সন্তানরা পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে সন্ধ্যার পর উদ্দেশ্যহীনভাবে বাইরে ঘোরাফেরা করবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ডিজিটাল ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) যাচাই করে নিশ্চিত হয় যে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের সতর্ক করে নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “কিশোরদের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য। একটি ভুল সিদ্ধান্ত যেন কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে, সে বিষয়েই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী থাকা প্রয়োজন। অভিভাবকদেরও সন্তানের চলাফেরা ও সঙ্গ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কিশোর অপরাধ ও গ্যাং সংস্কৃতি প্রতিরোধে পুলিশের জনসচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।








