শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে সন্ধ্যার পর উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরির দায়ে ৫ কিশোর আটক, মুচলেকায় মুক্তি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ এম
শাহরাস্তিতে সন্ধ্যার পর উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরির দায়ে ৫ কিশোর আটক, মুচলেকায় মুক্তি

শাহরাস্তিতে পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে সন্ধ্যার পর উদ্দেশ্যহীন ও সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় ৫ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের অভিভাবকদের লিখিত মুচলেকার ভিত্তিতে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোর গ্যাং কালচার প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১০ জুন) রাতে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম শাহরাস্তি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ও মেহের স্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে এসআই (নিঃ) আব্দুল কুদ্দুছ সরকার, এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ আল আমিন ভূঁইয়া ও এসআই (নিঃ) মোঃ আইয়ুব খাঁন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অংশ নেন।

অভিযানকালে সন্ধ্যার পর পড়াশোনা বাদ দিয়ে অযথা ঘোরাফেরা করার সময় ৫ কিশোরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের মধ্যে ৩ জন অষ্টম শ্রেণি এবং ২ জন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তবে ওই সময় বাইরে অবস্থানের বিষয়ে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

খবর পেয়ে আটককৃতদের অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত হন। তারা সন্তানদের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের সন্তানরা পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে সন্ধ্যার পর উদ্দেশ্যহীনভাবে বাইরে ঘোরাফেরা করবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ডিজিটাল ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) যাচাই করে নিশ্চিত হয় যে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের সতর্ক করে নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

Model Hospital

শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “কিশোরদের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য। একটি ভুল সিদ্ধান্ত যেন কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে, সে বিষয়েই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী থাকা প্রয়োজন। অভিভাবকদেরও সন্তানের চলাফেরা ও সঙ্গ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কিশোর অপরাধ ও গ্যাং সংস্কৃতি প্রতিরোধে পুলিশের জনসচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’