শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে আকিজ কোম্পানির লিথিয়াম ব্যাটারির উদ্যোগে অটো মালিকদের সাথে মতবিনিময়

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ পিএম
চাঁদপুরে আকিজ কোম্পানির লিথিয়াম ব্যাটারির উদ্যোগে অটো মালিকদের সাথে মতবিনিময়

আকিজ কোম্পানির লিথিয়াম ব্যাটারির উদ্যোগে অটো মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

আকিজ মোবিলিটি লিথিয়াম ব্যাটারির উদ্যোগে চাঁদপুরে অটো ও ইজিবাইক মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং পরিবহন খাতের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩ টায় চাঁদপুর রোটারি ক্লাব, প্রেসক্লাব রোডস্থ ড. নুর রহমান কনফারেন্স হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিবহন খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অটো ও ইজিবাইক মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার পরিবহন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে চালক ও মালিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবহন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। লিথিয়াম ব্যাটারি শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ীই নয়, এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এ ধরনের প্রযুক্তির প্রসার ঘটলে অটোচালক ও মালিকরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন এবং যাত্রীসেবার মানও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ খাতের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

আকিজ ভেঞ্চার কোম্পানির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং আকিজ মোবিলিটি লিথিয়াম ব্যাটারির ডিলার শেখ সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর আজম শরীফ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আরিফুর রহমান, চাঁদপুর ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, চাঁদপুর পৌরসভা মালিক-শ্রমিক ঐক্যের সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হানিফ গাজী।

সভায় বক্তারা অটো ও ইজিবাইক মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা, আধুনিক ব্যাটারি প্রযুক্তির সুবিধা, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চালক-মালিকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অটো ও ইজিবাইক মালিকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। এ সময় আকিজ মোবিলিটি লিথিয়াম ব্যাটারির প্রতিনিধিরা তাদের পণ্যের গুণগত মান, দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষমতা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’