শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ৭ দিনে মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৫ আসামিক আটক

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪৫ এম
শাহরাস্তিতে ৭ দিনে মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৫ আসামিক আটক
শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে গত ৬ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ১৫ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় পৃথক তিনটি অভিযানে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ১৩ জুন শাহরাস্তি থানা পুলিশ সিআর পরোয়ানাভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।
তাদের মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউপির  কৃষ্ণপুর (মোল্লা বাড়ি) গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে মোস্তফা কামাল (৬০), শাহরাস্তি উপজেলার নিজ মেহের গ্রামের কামেশ্বর পালের ছেলে নুপুর চন্দ্র পাল এবং শাহরাস্তি উপজেলার কাজিরকাপ গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে সেকান্তর আলী ।
এর আগে ১২ জুন মাদকবিরোধী অভিযানে শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউপির শোরশাক উত্তরপাড়া বেপারী বাড়ির শফিকুল ইসলামের ছেলে শাহাদাত হোসেনকে (২৪) ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
১০ জুন সিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাহরাস্তি উপজেলার মেহের এলাকার ঘুঘুশাল গ্রামের মৃত আব্দুর রব মিয়াজীর ছেলে আজাদ হোসেনকে আটক করা হয়। তিনি যৌতুক আইনের মামলায় ১ বছর ৫ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন।
৯ জুন পৃথক অভিযানে দুই পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আটক করা হয়। তারা হলেন শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির বলশীদ গ্রাম ও বাদিয়া গ্রামের কাজিমুদ্দিন পাটোয়ারীর ছেলে মাসুদ আলম এবং রাগৈ গ্রামের ছমির উদ্দিনের মেয়ে সাজেদা বেগম।
৮ জুন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর মামলায় শাহরাস্তি উপজেলার চেড়িয়ারা (পাটোয়ারী বাড়ি) গ্রামের মৃত হাফেজ আহাম্মদ পাটোয়ারীর ছেলে আবু ইউছুফ পাটোয়ারীকে (৩৫)আটক করা হয়।
৭ জুন শাহরাস্তি থানা পুলিশ একাধিক অভিযানে মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে মাদক মামলায় শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির খিতারপাড় (নোয়াব আলী বাড়ি) গ্রামের আবুল আলমের ছেলে মাসুদুর রহমানকে (৩০) ৯ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
একই দিনে নিয়মিত চুরি মামলায় শাহরাস্তি উপজেলার পাথৈর (ছফর আলী মিয়াজী বাড়ি) গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে মোর্শেদ আলম নাহিদ (২৪) এবং প্রসন্নপুর গ্রামের ফয়েজ আহাম্মদের ছেলে আব্দুল কাদেরকে (২০) গ্রেফতার করা হয়।
নিয়মিত মামলায় শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপির খেড়িহর  (সোনারগাঁও বড় বাড়ি) গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহিম সুজনকে (৩৭) গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে শাহরাস্তি উপজেলার নিজ মেহের (মিজি বাড়ি) গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন সাগরকে (২২) আটক করা হয়।
একই দিন আরও একটি অভিযানে জিআর পরোয়ানাভুক্ত ১ জন, মাদক মামলার ১ জন, নিয়মিত মামলার ৩ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারার ১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে ৬ জুন মাদকবিরোধী অভিযানে শাহরাস্তি উপজেলার দৈকামতা (জয়নাল হাজী বাড়ি) গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেনকে (২০) ২১ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মিঠুন দাস, এসআই রফিকুল ইসলাম, এসআই শেখ রায়হানুল ইসলাম, এসআই শফিকুল ইসলাম, এসআই আব্দুল কুদ্দুস সরকার, এসআই আরিফ হোসাইন, এসআই মোহাম্মদ আল আমিন ভূঁইয়া, এসআই মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া, এএসআই মনিরুল হক, এএসআই আজাদ হোসেন, এএসআই আবুল কালাম, এএসআই ফারুক আহাম্মদ, এএসআই বাবুল হোসেন, এএসআই শহীদুল্লাহসহ বিভিন্ন টিম এসব অভিযান পরিচালনা করেন।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক, চুরি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে শাহরাস্তি থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বা সোপর্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’