শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তির নবাগত ইউএনও মনিরা খাতুনকে শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১২:২৪ এম
শাহরাস্তির নবাগত ইউএনও মনিরা খাতুনকে শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সংবর্ধনা
শাহরাস্তিতে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনকে শিক্ষক ও কর্মচারী সংগঠনের উদ্যোগে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং শাহরাস্তি উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের যৌথ আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন এমএসসি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন।
তিনি তার বক্তব্য বলেন, সংবর্ধিত অতিথি মনিরা খাতুন তাঁর বক্তব্যে আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের মূল ভিত্তি। শাহরাস্তির শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক সমাজের গঠনমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আলী আশরাফ, শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমাম হোসেন, ভোলদীঘি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ইছাপুরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিজ মেহের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আযাদ হোসেন, উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধানগণ, শিক্ষক ও কর্মচারী প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা ইসমাইল হোসেন সিরাজী। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষা ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগেই একটি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। তিনি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আলী আশরাফ বলেন, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার মান উন্নয়নের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
বক্তারা নবাগত ইউএনওর নেতৃত্ব ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, শাহরাস্তির শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং জনসেবার মান বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ সময় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তাদের অনেকে মত প্রকাশ করেন, বিচ্ছিন্নভাবে দুই-একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পরিবর্তে দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’