শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ স্বর্ণকলি সপ্রাবি’র সভাপতি হলেন সাংবাদিক হাবীব উল্যাহ্

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
হাজীগঞ্জ স্বর্ণকলি সপ্রাবি’র সভাপতি হলেন সাংবাদিক হাবীব উল্যাহ্

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ড টোরাগড় গ্রামের স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হয়েছেন, সাংবাদিক মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্। গত ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) বিদ্যালয়ের ১১ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি। এ নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্যালয়ের সভাপতি হন।

কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান, বিদ্যোৎসাহী সদস্য খালেদা পারভীন টুম্পা, উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মো. নাজমুস শাহাদাত, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, অভিভাবক সদস্য আনোয়ার হোসেন, আব্দুল হান্নান, মোসা. আমেনা বেগম, উম্মে ফারজানা, শিক্ষক প্রতিনিধি জাহানারা বেগম, সদস্য সচিব ও প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল।

এদিকে স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হক, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, সাংবাদিক মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্।

একই সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিদ্যোৎসাহী সদস্য, দাতা ও অভিভাবক প্রতিনিধিসহ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা চিত্তে অভিনন্দন জানিয়েছেন, মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মানোন্নয়নে কাজ করবেন উল্লেখ করে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, নব-নির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ পৌরসভাধীন টোরাগড় গ্রামের ভুঁইয়া বাড়ির মরহুম মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের ছেলে। তিনি জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাষ্টার্স (এমএসএস) সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও অর্থ সম্পাদক, সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হাজীগঞ্জ রিপোটার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি জাতীয় ইংরেজী দৈনিক ‘ডেইলি অবজারভার’ ও জাতীয় বাংলা দৈনিক ‘প্রতিদিনের সংবাদ’ এর হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি, চাঁদপুরের পাঠক প্রিয় দৈনিক ‘ইল্শেপাড়’ এর হাজীগঞ্জের ব্যুরো ইনচার্জ (অফিস প্রধান) ও হাজীগঞ্জ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পদে কর্মরত আছেন।

সংবাদিকতার পাশাপাশি হাজীগঞ্জ স্বর্নকলি হাই স্কুলের পরিচালক (নির্বাহী কমিটি সদস্য), টোরাগড় পূর্বপাড়া হাজী রহিম উদ্দিন জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ ‘হারুন টাইলস্ এন্ড স্যানেটারি’, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, হাজীগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, টোরাগড় হিউম্যান হেল্প ফাউন্ডেশন ও গণপাঠাগারসহ বেশ কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’