শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর এলজিইডির নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুজ্জামানের দায়িত্ব গ্রহণ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চাঁদপুর এলজিইডির নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুজ্জামানের দায়িত্ব গ্রহণ

চাঁদপুর জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেছেন মো. নূরুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তিনি বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনোয়ার উদ্দিনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

মো. নূরুজ্জামান ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ২০১১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) যোগদান করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি খুলনার বিভিন্ন উপজেলায়, এলজিইডির সদর দপ্তরের প্রশাসনিক শাখায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী, ভোলা জেলায় সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং পদোন্নতি পেয়ে কুমিল্লা জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

Model Hospital

দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান বলেন, চাঁদপুর জেলার গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান প্রকল্পগুলোকে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনগণের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করছি। সবার অংশগ্রহণে চাঁদপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’