শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের নারায়ণপুর এলাকা খানাখন্দে ভরা, ভোগান্তি চরমে

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৬ এম
মতলব-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের নারায়ণপুর এলাকা খানাখন্দে ভরা, ভোগান্তি চরমে
চাঁদপুরের মতলব-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় সড়কের বুক থেকে পিচঢালাই উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। সড়কের দীর্ঘ অংশ ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় গাড়ির চাকা গর্ত এড়িয়ে চালানোর সময় গর্তে পরে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আর সড়কের এই ভাঙ্গা অংশ যাত্রী ও চালকরা জীবনের ঝুঁকে নিয়ে পাড়ি দিতে হচ্ছে দিনের পর দিন। দীর্ঘদিন সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও নজর দেয়নি সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
তবে আপাতত চলাচলের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস আলী।
এদিকে টানা বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে উপজেলার নারায়ণপুর সাহা বাড়ির মোড় ও নারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত এই অংশটুকু বেহাল দশায় পরিণত হয়।
মাঝেমধ্যে সড়কটির গর্তে কিছু ইট-সুরকি ফেলা হলেও বৃষ্টিতে ইট-সুরকি ভেঙেচুরে সরে যাচ্ছে। পুনরায় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে সড়কটিতে। সড়কটি খারাপ থাকায় এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের নারায়ণপুর বাজার সংলগ্ন সাহা বাড়ির মোড় ও নারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকাজুড়ে কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পর এসব খানাখন্দে পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তারপরও বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করে যাত্রীবাহী বাস, পন্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। এসময় যানবাহনের ধীরগতির কারণে প্রায়ই সড়কটিতে যানজট লেগে থাকে। আর এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশে যে ড্রেনেজ রয়েছে সেটি সচল না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে সড়কটির নারায়ণপুর বাজার এলাকা অংশে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর রাস্তার বেহাল দশা ও খানাখন্দের কারণে সাধারণ মানুষের নিয়মিত যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনদের।
এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ, নাছির বকাউল, মো. হেলাল উদ্দিন, শরীফ বকাউল, কাদির কাজীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, এই সড়কটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। সড়কটির এই বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন গাড়ি উল্টে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ অনেক সাধারণ যাত্রীদের হাত-পা ভেঙ্গেছে। তাই সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জায়গাটি পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, এই রাস্তা সংস্কারের জন্য আমরা নোটিশ করেছি। কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। আমরা দরপত্র আহ্বান করতেছি। আপাতত চলাচলের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’