শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ার বুরগী সপ্রাবি’র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম
কচুয়ার বুরগী সপ্রাবি’র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান

কচুয়ার বুরগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান।

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উৎসাহিত করতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের বুরগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি, সম্মাননা ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর পরিবেশে ‘প্রফেসর সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম নিশু স্মৃতি ঘর ট্রাস্ট’ এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রয়াত প্রফেসর সৈয়দা নুরুন্নাহার বেগম নিশু ছিলেন সাবেক যুব চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের সহধর্মিণী। তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বুরগী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আল মাসুদ গাজী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক যুব চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলোকিত বাংলাদেশ গড়বে। তাদের স্বপ্নপূরণে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। মেধার মূল্যায়নই একটি উন্নত জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি।”

Model Hospital

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সমাজসেবক আব্দুল আজিজ মাস্টার, বুরগী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ মো. মাহবুব আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার এবং হাজীগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মো. তরিকুজ্জামান সোহাগ। বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বুরগী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মো: তাজুল ইসলাম, গোহট উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ হোসেন জাকির ও কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বুরগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রেহানা পারভীন। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখে ইশরাত জাহান ইভা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বশির উল্লাহ।

অনুষ্ঠান শেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত সাতজন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ, সম্মাননা ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’