শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিকাশের ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
চাঁদপুরে বিকাশের ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

চাঁদপুরে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের উদ্যোগে ‘বাংলা কিউআর: ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর শহরের রেডচিলি রেস্টুরেন্টে এই আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মার্চেন্ট বসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিকাশ লিমিটেড -এর ডিস্টিবিউটর মোঃ লতিফ তপাদার, বিকাশের মার্চেন্ট এরিয়া ম্যানেজার বানী আহমেদ, টেরিটোরি ম্যানেজার মোঃ সাকিব রহমান এবং অপারেশন ম্যানেজার মোঃ শামসুল আলম।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে ‘বাংলা কিউআর’ একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিরাপদে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন এবং ব্যবসায়ীরাও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি ও ঝামেলা কমিয়ে দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। এটি যেমন সময় ও খরচ সাশ্রয় করে, তেমনি লেনদেনে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও গ্রাহকসেবার মানও বৃদ্ধি করে।

Model Hospital

তারা আরও বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসার পরিধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলা কিউআর একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী সেবা। এর ব্যবহার বাড়লে নগদবিহীন লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নগদবিহীন লেনদেনের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে এবং স্মার্ট, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে উঠবে।

মতবিনিময় সভায় বাংলা কিউআর সেবার বিভিন্ন সুবিধা, ব্যবহার পদ্ধতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যবসা সম্প্রসারণে এর সম্ভাবনা, কাস্টমারদের জন্য লোন, ক্যাম্পেইন পেমেন্ট স্পিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’