শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে মানব উন্নয়ন সংস্থা জীবনদীপের আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
চাঁদপুরে মানব উন্নয়ন সংস্থা জীবনদীপের আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা

চাঁদপুরের মানব উন্নয়ন ও সেবামূলক সংস্থা জীবনদীপের আয়োজনে আলোচনা সভা এবং গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯ টায় শহরের ফিডার রোডস্থ জিবনদীপের নিজস্ব কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। এতে সামাজিক, মানবিক এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ৩ জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

জীবনদীপের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিত সাহার পরিচালনায় সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবিক সংগঠন ‘গৌর নিতাই সংঘ’র প্রতিষ্ঠাতা এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলা মহাশ্মশানের প্রধান উপদেষ্টা ভবতোষ সাহা, জীবনদীপের উপদেষ্টা তৌহিদুল ইসলাম চপল, জীবনদীপ কাতার শাখার সভাপতি সাইফুদ্দিন খান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, তপন সরকার, বাসুদেব মজুমদার, সুদর্শন দাস, নির্মল পাল, নিমাই ঘোষ, সুভাষ ঘোষ, বালাই সাহা, উৎপল মজুমদার আশিষ, প্রবীর কুমার সাহা, অ্যাড. সুমন দেবনাথ, অ্যাড. ভাস্কর দেবনাথ, অ্যাড. তপন দেবনাথ, প্রবীর সরকার, পিন্টু সাহা, পীযূষ সাহা, অমরেশ দত্ত জয়, মৃদুল দাস, লিটন সরকার, উত্তম ঘোষ, প্রিয়তোষ সাহা, পিন্টু লাল সাহা, জয়ন্ত সাহা, লীলা মজুমদার, প্রীতম রায়, সুখবরঞ্জন দাস প্রমুখ।

Model Hospital

বক্তারা বলেন, জীবনদীপ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি মানবতা, ভালোবাসা ও সেবার এক উজ্জ্বল প্রতীক। চাঁদপুরে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জীবনদীপ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিনামূল্যে রক্তদান কার্যক্রমের মাধ্যমে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সংগঠনটির সদস্যরা যে নিরলস ভূমিকা পালন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। পাশাপাশি বিনামূল্যে দেহ দান অঙ্গ দানের মাধ্যমে জীবনদীপ সমগ্র বাংলাদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মানবসেবার চেয়ে বড় কোনো ভালো নেই। জীবনদীপ সেই মহান মানবসেবার পথেই এগিয়ে চলছে। এই সংগঠনের প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবী নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আশা করি, জীবনদীপ আগামী দিনগুলোতেও আরও বৃহৎ পরিসরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সংকটাপন্ন মানুষের পাশে থেকে মানবতার এই আলোকবর্তিকা আরও উজ্জ্বল করবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’