বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পুরান বাজারে শহীদ জিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায় : মোশাররফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ এম
খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায় : মোশাররফ হোসাইন
চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারে উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশে ‘শহীদ জিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে পুরান বাজার পশ্চিম শ্রীরামদী সংলগ্ন মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসাইন।
তিনি বক্তব্য বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারের একটি ব্যবসায়ীক এলাকা। সেই তুলনায় এই এলাকায় তেমন একটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আজকে পুরান বাজারের মানুষ আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, তা আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে রাখব। আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসাই আমার চলার পথে প্রধান শক্তি। ইনশাল্লাহ যদি আল্লাহ আমাকে চাঁদপুর পৌরসভার হিসেবে কবুল করেন, তবে কথা দিলাম আপনাদের ভালোবাসার সর্বোচ্চ প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদ বেপারী, বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ, এলাকার মুরুব্বী সুভাষ রায়, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফর খান, আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি আরমান চৌকিদার, আলমগীর হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং টুর্নামেন্টটি আয়োজকবৃন্দ।
টুর্নামেন্টে মোট ১৬ টি দল অংশগ্রহণ করে। উদ্বোধনী খেলায় রনাগোয়াল একাদশকে ৮-০ গোলে পরাজিত করে একতা স্পোর্টিং ক্লাব। উদ্বোধনী খেলায় সেরা খেলোয়া নির্বাচিত হন একতা স্পোর্টিং ক্লাবের মোঃ সোহেল। খেলা পরিচালনায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম পিন্টু। টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।