শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্ত ও র‍্যালি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ এম
শাহরাস্তিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্ত ও র‍্যালি
“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্ত, বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
এতে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ও বিজ্ঞ  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি ।
দিনের শুরুতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মনিরা খাতুনের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদের পুকুরে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ সময় তিনি বলেন, দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে শুধু পোনা অবমুক্ত করলেই হবে না, জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা, সঠিকভাবে মাছ চাষ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে হবে। নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
পরে র‍্যালি শেষে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম। তিনি শাহরাস্তিতে মৎস্য উৎপাদনের বর্তমান চিত্র, সম্ভাবনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তার উপস্থাপনায় বায়োফ্লক, আরএএস (Recirculating Aquaculture System), অ্যাকোয়াপনিক্স, আধুনিক এয়ারেশন ও অক্সিজেনেশন ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ফিশ ফিডার, পানির গুণমান পর্যবেক্ষণে সেন্সর ও আইওটি প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল ফার্ম ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, সীমিত জায়গা ও পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মানসম্মত পোনা নির্বাচন, সুষম খাবার প্রয়োগ, পানির গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ ফারুক  আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মৎস্য সম্পদ উৎপাদনে খামারি পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন সফল মৎস্যচাষিকে ক্রেস্ট ও সনদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন শুচিপাড়া দক্ষিণ সাবেক ইউপি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রশিদ, শাহরাস্তি পৌর শহরের কাজিরকাপ মহল্লার সফল মৎস্যচাষি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ হুমায়ুন কবির এবং নারী মৎস্যচাষি হোসনে আরা।
বক্তারা বলেন, জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও অবৈধভাবে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আবুল কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, সফল মৎস্যচাষি আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান, আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান, সমবায় কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন খান, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কাজী হুমায়ুন কবির, সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, বর্তমান সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দসহ মৎস্যচাষি, খামারি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন তোফাজ্জল হোসেন এবং গীতা পাঠ করেন রিতা রানী পাল।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’