শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় অনুষ্ঠানে না থেকেও মন্ত্রীর কর্মসূচির প্রশিক্ষণ ভাতা তোলার অভিযোগ: সমালোচনার ঝড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
কচুয়ায় অনুষ্ঠানে না থেকেও মন্ত্রীর কর্মসূচির প্রশিক্ষণ ভাতা তোলার অভিযোগ: সমালোচনার ঝড়

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবু তাহেরের ফাইল ফটো।

প্রশিক্ষণে অংশ না নিয়েও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি প্রশিক্ষণ ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবু তাহেরের বিরুদ্ধে। এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতে তার অনুপস্থিতি এবং সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার নিয়ে কৃষি বিভাগে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার এলাকায় কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় বিনামূল্যে মিনি কোল্ড স্টোরেজ  উদ্বোধন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কিন্তু আমন্ত্রিত হয়েও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবু তাহের ও জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার সাইফুল হাসান আলামিন। অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও তারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ভাতা উত্তোলন করেছেন।

​এর আগে গত ১৬ মে চাঁদপুরে বিশ্বখাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও ওই প্রোগ্রামে তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, উপজেলাভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়েই ভাতা তুলে নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে এই কর্মকর্তার। এছাড়া জেলার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বসবাস করছেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তার এই অবস্থানের কারণে একদিকে যেমন নিয়মিত প্রশিক্ষণের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Model Hospital

​সম্প্রতি অব্যবহৃত একটি সরকারি গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির গুঞ্জন উঠলে তোপের মুখে পড়ে তা আবার ফেরত আনার ঘটনাও ঘটে। যাহা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওইদিন শুক্রবার ছিল বিধায় কচুয়ার প্রশিক্ষণে উপস্থিত হতে পারিনি, তবে ভাতা নিয়েছি। তবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বসবাস করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

​এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করে ভাতা তোলার কোনো বৈধতা নেই। এটি সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা ও আইনের পরিপন্থী। এছাড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বসবাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ডরমিটরি হিসেবে ব্যবহার করা হলে নির্ধারিত নিয়মে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।

তবে অব্যবহৃত একটি সরকারি গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি তা ফিরিয়ে এনেছেন এবং মিটমাট হয়েছে। কিভাবে মিটমাট হয়েছে জানতে চাইলে প্রশ্নের উত্তর পর্বে তা তিনি এড়িয়ে যান।

​দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আর কতো অপরাধ করলে কর্মকর্তা আবু তাহের এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে!

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’