শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে আপন কিডস স্পোকেন ইংলিশ সেন্টারের দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
চাঁদপুরে আপন কিডস স্পোকেন ইংলিশ সেন্টারের দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

চাঁদপুরে আপন কিডস স্পোকেন ইংলিশ সেন্টারের দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক ইংলিশ অলিম্পিয়াডে সাফল্য অর্জন ও বিদেশ ভ্রমণের জন্য সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

চাঁদপুরে আপন কিডস স্পোকেন ইংলিশ সেন্টারের দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক ইংলিশ অলিম্পিয়াডে সাফল্য অর্জন ও বিদেশ ভ্রমণের জন্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দ্বিতীয় তলায় চাঁদপুর সাংবাদিক ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধিত দুই শিক্ষার্থী হলেন : রাইনা হাসান তাসনিয়া ও সাজিদ ইসলাম। আন্তর্জাতিক ইংলিশ অলিম্পিয়াডে আপন কিডস স্পোকেন ইংলিশ সেন্টারের শিক্ষার্থী রাইনা হাসান তাসনিয়া জাতীয় পর্যায়ে সিলভার পজিশন অর্জন করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

অপর শিক্ষার্থী সাজিদ ইসলাম ইংলিশ অলিম্পিয়াডের ন্যাশনাল রাউন্ডে সিলভার মেডেল অর্জন করে আন্তর্জাতিক রাউন্ডে বালি, ইন্দোনেশিয়ায় অংশগ্রহণ করে। সেখানে সাজিদ তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে তিনটি পজিশন অর্জন করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

আপন কিডস স্পোকেন ইংলিশ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা রোটারিয়ান ডা. রাশেদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সামাজিক সংগঠন ‘আপন’-এর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সহ-সভাপতি রোটারিয়ান আশরাফুল আরিফ, যুগ্ম সম্পাদক সিদুল মুনা চৈতি, নির্বাহী সদস্য মো. মাসুদুর রহমান, আব্দুল আজিজ শিশির ও সাংবাদিক কে এম মাসুদ।

Model Hospital

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, “আপন কিডস স্পোকেন ইংলিশ সেন্টারের শিশু শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এজন্য আমি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। শিক্ষার্থীদের এই অর্জন শুধু তাদের পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো চাঁদপুরের জন্য গর্বের বিষয়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করে তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে।” তিনি বলেন, “ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চাঁদপুরের সন্তানরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। যথাযথ পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে চাঁদপুরের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বড় অর্জন বয়ে আনতে সক্ষম হবে।” অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত দুই শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’