শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে মাদক সেবন দেখে ফেলায় শি/শু/র পা’য়ুপ’থে ব্রাশের হাতল ঢু’কি’য়ে নি’র্যা’ত’ন, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ফরিদগঞ্জে মাদক সেবন দেখে ফেলায় শি/শু/র পা’য়ুপ’থে ব্রাশের হাতল ঢু’কি’য়ে নি’র্যা’ত’ন, গ্রেপ্তার ১

মাদক সেবন দেখে ফেলায় শিশুর পায়ুপথে ব্রাশের হাতল ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ১২ বছরের ওই শিশুকে স্থানীয় একটি মসজিদের ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আজ মঙ্গলবার আবদুল খালেক (৩৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন ও পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।

গ্রেপ্তার আবদুল খালেক উপজেলার দক্ষিণ পাড়াগাব্দেরগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায়, অভিযুক্ত চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত। শিশুটি তাঁদের মাদক সেবন দেখেছে এবং এলাকার লোকজনকে জানিয়ে দেবে—এমন আশঙ্কা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।

Model Hospital

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার রাতে স্থানীয় বাজার থেকে ফুচকা খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে একা পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পেছন থেকে জাপটে ধরে একটি মসজিদের ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধরের পর পায়ুপথে প্লাস্টিকের ব্রাশের হাতল প্রবেশ করিয়ে ফেলে রেখে যায়।

শিশুটির বাবা মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে তাদের মাদক সেবন দেখে এবং এলাকার লোকজনকে জানিয়ে দেবে বলার কারণে তারা আমার ছেলেকে মসজিদের ছাদে শুইয়ে বীভৎস নির্যাতন চালায়। তার পায়ুপথে মারাত্মক রক্তপাত হয় এবং সে অচেতন হয়ে যায়। আমার ছেলেটার জীবন তারা নষ্ট করেছে। আমরা অসহায় মানুষ, উচিত বিচার চাই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। সব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এলাকায় মাদক কারবারিদের কারণে নানা ধরনের চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, ‘শিশুর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি ন্যক্কারজনক। এ ঘটনায় শিশুর বাবার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে আবদুল খালেক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য কাউকে পাওয়া গেলে তদন্ত করে তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’