শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় নওমুসলিমের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার মজুমদার

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ পিএম
কচুয়ায় নওমুসলিমের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার মজুমদার

কচুয়ায় কাদলা ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম নামে এক নব মুসলিমের পাশে দাঁড়িয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার। নব মুসলিমকে একটি টিনশেড বিল্ডিং করে যাচ্ছেন তিনি।

বৃষ্টি এলেই ঘরের চাল চুইয়ে পানি পড়ত। কোথাও ফুটো দিয়ে, কোথাও ভাঙা টিনের ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকত বৃষ্টির পানি। তিনটি মাদ্রাসা পড়ুয়া  সন্তানকে নিয়ে সেই জরাজীর্ণ ঘরেই বছরের পর বছর কষ্টে দিন কাটছিল ৫০ বছর বয়সী দিনমজুর নব মুসলিম নুরুল ইসলাম। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নতুন ঘর নির্মাণ ছিল তার কাছে অনেকটাই স্বপ্নের মতো। অবশেষে সেই স্বপ্নের ঘর  টিনশেড বিল্ডিং পেতে যাচ্ছেন।
তার দুরবস্থার কথা কচুয়া মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ফরহাদ হোসেন তার ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও দেখে জানতে পেরে নব মুসলিম নুরুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কাদলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার । নুর ইসলামকে প্রথমে  ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে তার উদ্যোগে দুই প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে একটি টিনশেড বিল্ডিং করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে তার টিনশেড বিল্ডিং করার জন্য জায়গা দেখতে যান।
এ সময় বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুল মোতালেব হোসেন, কচুয়া মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ফরহাদ আহমদ,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা জালাল উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোহাম্মদ নাঈম হোসেন, সাবেক ছাত্রদলের নেতা জহিরুল ইসলাম, জামাল হোসেন ও আরিফুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার বলেন, কচুয়া মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ফরহাদ আহমদ হুজুরের ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উনি এই ভাঙ্গাচড়া ঘরটি দেখতে পাই। সেই বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে সে তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রথমে ২০ হাজার টাকা আমি অনুদান দিয়েছি। পরবর্তীতে দুজন প্রবাসী ভাই সহযোগিতায় আমি ওনাকে একটি পাকা টিনশেড বিল্ডিং করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
সে যেনো তার পরিবার ও সন্তানদেরকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারে সে জন্য আমার প্রচেষ্টা। এছাড়া ওই এলাকার এক হিন্দু সম্প্রদায়ের এক অসহায় ব্যক্তিকে বর‌ইগাঁও যুব উন্নয়ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমি একটি ঘর করে দিয়েছি। ওই সংগঠনের বর্তমান আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছি। এছাড়াও আমি এই ইউনিয়নে আমার সাধ্যমত অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে আসছি।
নব মুসলিম নুরুল ইসলাম বলেন, আমি ২০১৩ সালে কাগজপত্র মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। আমি মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করা পর বিয়ে করলে তিনটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তিনটি ছেলে বর্তমানে হাফিজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছেন। ইসলাম ধর্ম হলো শান্তির ধর্ম, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পরে আল্লাহর রহমতে এখন আমি অনেকটাই ভালো আছি।
আর্থিক সমস্যার কারণে ভাঙ্গাচুরা ঘর থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এই ইউনিয়নের কৃতি সন্তান কাদলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার ভাই।
আমাকে তিনি প্রথমে ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন পরবর্তীতে ওনার সার্বিক সহযোগিতায় আধাপাকা বিল্ডিং ঘর করে দিচ্ছেন। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন আপনাদেরকে সবসময় সুস্থ ও নেক হায়াত দান করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’