বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে স্থানীয় এমপি ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আবেদন

স্থানীয় সংবাদপত্রের স্বার্থে ১৯৭৩ সালের ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন’ সংশোধনের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩১ পিএম
স্থানীয় সংবাদপত্রের স্বার্থে ১৯৭৩ সালের ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন’ সংশোধনের দাবি
স্থানীয় দৈনিক সহ অন্য সংবাদপত্রগুলোর আধুনিকায়ন, মানোন্নয়ন ও টেকসই বিকাশের লক্ষ্যে বিদ্যমান ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন, ১৯৭৩’ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব ও চাঁদপুর জেলার স্থানীয় দৈনিকসহ সকল পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর নিকট আইনটি সংশোধনক্রমে যুগোপযোগী করার আবেদন জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আবেদনটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কার্যালয়ে প্রেরণ করেছেন। এর আগে, গত ১১ আগস্ট স্থানীয় সম্পাদক ও প্রেস ক্লাবের পক্ষে এ সংক্রান্ত  লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনে ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন, ১৯৭৩’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন, সংযোজন অথবা প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত সংবাদপত্রকে সংশ্লিষ্ট জেলা থেকেই মুদ্রণ ও প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনটি প্রণয়নের তৎকালীন বাস্তবতায় এ বিধান কার্যকর থাকলেও বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের পরিবর্তিত পরিমণ্ডলে তা অনেকটাই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে চাঁদপুর থেকে প্রায় ২২টি দৈনিক সংবাদপত্র নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এছাড়া সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকাও প্রকাশিত হচ্ছে। তবে এ জেলায় আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের অফসেট প্রেস সুবিধা অপ্রতুল। স্থানীয় প্রেসে ছাপাখানার গুণগত মান কম হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এতে স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকায় আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তি, উন্নত ছাপাখানা ও কম খরচে দ্রুত সেবার সুবিধা রয়েছে। নিজ জেলার বাইরে দেশের যে কোনো নিবন্ধিত বা অনুমোদিত আধুনিক ছাপাখানা থেকে পত্রিকা মুদ্রণের আইনি সুযোগ দেওয়া হলে সংবাদপত্রের মান ও পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি কমে আসবে প্রকাশনা ব্যয়।
সোহেল রুশদী তাঁর প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে জেলাভিত্তিক সংবাদপত্রগুলো আধুনিক সুবিধা থেকে পিছিয়ে পড়ছে এবং জাতীয় পত্রিকার সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে এ খাতের অস্তিত্ব রক্ষা ও বিকাশে আইনি সংস্কার জরুরি।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাব মনে করে, প্রস্তাবিত এ সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে শুধু চাঁদপুর নয়, সারা দেশের জেলা পর্যায়ের সংবাদপত্রগুলো আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পাবে এবং স্থানীয় গণমাধ্যম খাত একটি টেকসই ভিত্তি লাভ করবে। চাঁদপুর থেকে এ দাবি উত্থাপিত হলেও এ দাবি বস্তুত সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকদেরই দাবি। এ দাবির সমকালীনতা সম্পর্কে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নানা বাস্তবতায় কম-বেশি  অবহিত যে আছে সেটা হলফ করেই বলা যায়। অতএব, সময়ের চাহিদা বা যুগোপযোগী যেটাই বলি না কেনো, ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন সংশোধন অতীব জরুরি। এটা সংশ্লিষ্ট সকলের উপলব্ধির আওতায় আসলে স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো যথার্থ বিকাশ, উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পথে অগ্রসর হবে–এটা আস্থার সাথেই বলা যায়।

চাঁদপুরে পুকুর ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় লাখ টাকা জরিমানা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২০ পিএম
চাঁদপুরে পুকুর ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় লাখ টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলা সদরের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় মো. শাহাদাত হোসেন গাজী (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভরাট করা অংশ খনন করে অপসারণ করা বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য তাকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘন করে পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে মো. শাহাদাত হোসেন গাজীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করেন।

এ ছাড়া ভরাট করা অংশ খনন করে সেখানে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং তা পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

Model Hospital

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।