মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১০ পিএম
শাহরাস্তিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে কৃষিজমির টপ সয়েল (উর্বর উপরিভাগের মাটি) কেটে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলনের দায়ে মো. রাজু (২২) নামে এক ব্যক্তিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে তিনটি ড্রেজার অকেজো করার পাশাপাশি অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল অবধি  উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপির বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ  ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিতোষী পশ্চিম ইউপির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় অনুমোদন ছাড়াই ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে মাটি উত্তোলনের অপরাধে রায়শ্রী উত্তর এলাকার মো. রাজু (২২)-কে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

অভিযানের সময় মনোহরপুর এলাকায় মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার অকেজো করা হয়। এছাড়া নরিংপুর এলাকায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়।

Model Hospital

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান বলেন, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি বা টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার দিয়ে কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর বিধান অনুযায়ী উর্বর কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি বিনষ্ট হয় এমনভাবে মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ। একইভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে এমনভাবে মাটি বা বালু উত্তোলন করা যাবে না, যাতে জমি বা পার্শ্ববর্তী জমির ক্ষতি, চ্যুতি বা ধসের সৃষ্টি হয়।

অভিযানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।