বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘স্বামী ছাড়া আমার কী অইব, মেয়েডার কী অইব?’

‘ভাত বেড়ে রেখো, বাড়ি ফিরেই খাব’—স্ত্রীকে বলা শেষ কথা, ঘরে ফেরা হলো না খোকনের!

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
‘ভাত বেড়ে রেখো, বাড়ি ফিরেই খাব’—স্ত্রীকে বলা শেষ কথা, ঘরে ফেরা হলো না খোকনের!

স্ত্রীকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘ভাত বেড়ে রেখো, বাড়ি ফিরেই খাব।’ স্বামী বাড়ি ফিরবেন, একসঙ্গে কাটবে আরেকটি সাধারণ দুপুর—এমন অপেক্ষাতেই হয়তো ছিলেন স্ত্রী। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো স্বামীর মৃত্যুসংবাদে। ঘরে ফেরা হলো না আক্তারুজ্জামান খোকনের (৫০)। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে রেখে চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঠেটালিয়া এলাকার শম্ভুখাঁর ব্রিজসংলগ্ন সড়কে ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।

নিহত আক্তারুজ্জামান খোকন মতলব উত্তর উপজেলার হানিরপাড় গ্রামের এলাহী বক্স ও জরিনা বেগমের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রমি’র মতলব উত্তর উপজেলার পরিবেশক ও বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন তিনি।

স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কোম্পানির খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহের কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন খোকন। উপজেলার সাহেববাজারে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ শেষে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

Model Hospital

পথে স্ত্রীকে ফোন করে বাড়ি ফিরে ভাত খাওয়ার কথা জানান। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শম্ভুখাঁর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে তাঁর মুঠোফোনটি সড়কে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি সেটি থেকে স্বজনদের খবর দেন। সংবাদ পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা খোকনকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘স্বামী ছাড়া আমার কী অইব, মেয়েডার কী অইব?’

প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বারবার বিলাপ করছিলেন খোকনের স্ত্রী, বোন, মেয়ে ও অন্য স্বজনেরা। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমারে রাইখা স্বামী চইলা গেল। স্বামী ছাড়া আমার কী অইব? মেয়েডার কী অইব, কে তাঁরে দেইখা রাখব? আমার সব শেষ। স্বামীরে ছাড়া এহন ক্যামনে বাঁচুম?’

একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিল একজন কর্মজীবী মানুষের প্রাণ। ভেঙে দিল একটি পরিবারের স্বপ্ন, কেড়ে নিল স্ত্রী-সন্তানের নির্ভরতার জায়গা। যে মানুষটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়ার কথা বলেছিলেন, তাঁর জন্যই এখন স্বজনদের বুকফাটা কান্না।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া আক্তারুজ্জামান খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্নাইপার সংক্রান্ত একটি মন্তব্য ঘিরে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মন্তব্যটিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতারা। তারা মন্তব্যটির বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে ওই মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল তিনটার দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে রাজশাহীর নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় রাস্তার দুধারে অসংখ্য মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে জবাব দেন।

তবে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকালে ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে লেখা হয় ‘সবই বুঝলাম! রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন রাজশাহীবাসী?’ এই পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রুয়েটের বাসের ছবি সংযুক্ত করা হয়।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয় ‘ইস! একটা বড় সুযোগ। ছিল শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’। এই মন্তব্যটির ভাষা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।

Model Hospital

তাদের মতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে মন্তব্যটির উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে কোনো বাস্তব হুমকির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যিনি এমন কথা বলেছেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। তার ভাষ্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আশরাফ মাসুম বলেন, ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমরাও উদ্বিগ্ন হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্তব্যটি তার প্রতি হুমকির ইঙ্গিত বহন করে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একজন একটি মন্তব্য করেছেন যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে।