বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

‘আপনারা সংখ্যালঘু নন, এ দেশেরই নাগরিক’ হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপে এমপি মমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২০ পিএম
‘আপনারা সংখ্যালঘু নন, এ দেশেরই নাগরিক’ হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপে এমপি মমিনুল হক

হাজীগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে শান্তিতে বসবাস করতে হবে।

‘আপনাদের কাছ থেকে “মাইনোরিটি” (সংখ্যালঘু) শব্দটি যেভাবে আসে, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আপনাদের চৌদ্দ পুরুষ এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। বংশপরম্পরায় আপনারা এই মাটিতেই জন্মেছেন এবং বাংলাদেশের নাগরিক।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা মাখন মণ্ডল দাস বাড়ি সার্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

তিনি বলেন, ‘এখানে আপনারা যেভাবে বসবাস করছেন, ঠিক একইভাবে ভারতেও আমাদের মুসলমানরা বসবাস করেন। সম্প্রীতির এই ভূখণ্ডে আমরা যেন কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা বা সংঘাত সৃষ্টি না করি।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে এমপি মমিনুল হক আরও বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আমাকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। ফলে আমার ওপর আপনাদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনাদের সমাজের যেকোনো সমস্যা আপনাদের প্রতিনিধিরাই সমাধান করবেন। সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য কারও হস্তক্ষেপ বা উপস্থিতি আমরা চাই না। ধর্মীয় বা সামাজিক কোনো বিষয়ে কেউ সমস্যা সৃষ্টি করলে আমাকে সরাসরি জানাবেন।’

Model Hospital

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আমাদের অনেক নেতাকর্মী রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল ও আমাদের রাজনৈতিক ধারার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে; আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমরা যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসি, তখন সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে মণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সহকারী প্রানেশ দাশ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নবিষয়ক প্রকল্পের পরিচালক ড. অসীম কুমার দাস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এম এ রহিম পাটোয়ারী, বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মেয়র প্রার্থী হাসান মিয়াজী, বাকিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল, উপজেলা যুবদল নেতা শুকুর আলম বেপারী, মমিন বেপারী, মোবাশ্বের মোল্লা ও শেখ খোরশেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোশারফ হোসেন মোল্লা, আক্তার বেপারী ও খোকন গাজী, ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মোতালেব গাজী ও রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদ, শ্রমিক দল নেতা আলাউদ্দিন তরুণসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ভক্তবৃন্দ।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বানের মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।