শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আবু বকর মানিকের বদলি জনিত বিদায়ে যা বললেন মনিরুজ্জামান মানিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২, ৩:৪৬ পিএম
আবু বকর মানিকের বদলি জনিত বিদায়ে যা বললেন মনিরুজ্জামান মানিক
চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের সদ্য বদলিকৃত ইউপি সচিব আবু বকর মানিকের বদলি জনিত বিদায়ে সাবেক জেলার শ্রেষ্ঠ, মৈশাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক তার ফেজবুকে তার কর্মদক্ষতা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। লিখতে তিনি কার্পণ্য করেনি, সত্য অবিচল  সত্য।
একজন কর্মবান্ধব ইউপি সচিব হিসেবে ৬বছর তাকে সঙ্গ দিয়েছেন, জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হতে আবু বক্কর মানিক সব সময় থাকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। নিচে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিকের হুবাহুব স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো।
ইউপি সচিব মানিকের বদলি জনিত বিদায় মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক তালুকদার (মানিক)।নিঃসন্দেহে বলতে পারি একজন দক্ষ ও ভালোমানের জনবান্ধন ইউপি সচিব। মৈশাদী ইউনিয়নে (০৭) সাতবছর দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। সরকারি নির্দেশনায় গত (২৪/০৪/২০২২)ইং তারিখ বদলি হয়ে আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদ এ নিযুক্ত হয়েছেন। আমি প্রায় ৬ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালিন তাকে কাছ থেকে দেখেছি। যখন যে দায়িত্ব দিয়েছি তা হাসিমুখে সুন্দর ও সঠিকভাবে পালন করেছেন। আমাদের ভিতর ভালো বুঝাপড়া ছিল। আসলে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করতে চেয়ারম্যান, সচিব, মেম্বার ও তথ্য সেবার সাথে সমন্বয় ও ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে না পারলে সে ইউনিয়নের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় না। এ ক্ষেত্রে ইউপি সচিব মানিক ভালো দায়িত্ব পালন করে গেছেন। সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়নে ছিলেন সিদ্ধ হস্ত।
মৈশাদী ইউনিয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে তার ভুমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সে আমাকে বিভিন্ন আইডিয়া দিতো আমি শুধু বাস্তবায়ন করে দিতাম। ইনোভেশন সফটওয়্যার তৈরি থেকে শুরু করে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের যে স্বপ্ন তা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বপ্রথম মৈশাদী ইউনিয়ন ই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর সে কাজে মানিকের ভুমিকা ছিল যথেষ্ট।
আমার মরহুম আম্মা তাকে সন্তান তুল্য স্নেহ করতেন।
এই চৌকস ইউপি সচিবের জন্য মৈশাদী ইউনিয়ন বাসীর দোয়া থাকবে। আমারও তার প্রতি ও তার পরিবারের সকলের প্রতি সালাম ও দোয়া থাকবে।
যেখানে একজন চেয়ারম্যান সচিবের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বাকবির্তক প্রায় সময় হয়ে থাকে, সেখানে চেয়ারম্যান যখন সচিবের বদলি জনিত বিদায়ে স্ট্যাটাস লিখে তখন করো বুঝার বাকী থাকেনা, কত ভাল মনে একজন সচিব হলে চেয়ারম্যান সচিবকে নিয়ে লিখে, ভাল থাকার প্রত্যাশা করে। মনিরুজ্জামান মানিকের ভাষ্যমতে সচিব আবু বকর মানিক একজন সৎ কর্মবান্ধব হিবেসে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছে। রাষ্ট্রের সকল কর্মকান্ড যথাযথ ভাবে পালন করেছে।
সম্পাদনায় : সজীব খান

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’