শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রামপুরে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আল মামুনকে ফুলেল শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১, ৫:৪৫ পিএম
রামপুরে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আল মামুনকে ফুলেল শুভেচ্ছা
মাসুদ হোসেন : আসন্ন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোঃ আল মামুন পাটওয়ারীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নব নির্বাচিত চেয়রাম্যান আল মামুন পাটওয়ারীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল কালাম পাটওয়ারী, বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা মোক্তার আহমেদ মাষ্টার, সহ সভাপতি শাহাদাত হোসেন জাকির পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুন্নবী সোহেল, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক খোকন রায়, সম্মানিত সদস্য মহিব উল্যাহ পাটওয়ারী, ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা ইছহাক তপদার, ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি মাহবুব আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন, ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ফখরুল আলম, খোরশেদ আলম, জুয়েল তালুকদার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ মাছুম বিল্লাহ, বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি আহমেদ পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হোসেন, ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা রিপন, নাঈম জুয়েল, ইভান রাসেল, জিয়া খানসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা প্রদানকালে আওয়ামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন রাজনৈতিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন নেতাকে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়া হয়েছে। তিনি এই পদের যোগ্যতা রাখেন। তিনি আমাদের পরম শ্রদ্ধার ব্যক্তি এবং তার মত যোগ্য ও ভাল মানুষ রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের পূনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আমরা অনেক খুঁশি। তাঁর নেতৃত্বে ইউনিয়নের জনসাধারণ আরো উপকৃত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তিনি এ ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুর দিক নির্দেশনায় বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কাজগুলো সকলের কাছে পৌঁছে দিয়ে রামপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ইউনিয়ন গড়ার অধিকার রাখবেন।
উল্লেখ্য, আসন্ন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকা প্রতীকে মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যতিত কোন প্রার্থী না থাকায় গত ২৭ অক্টোবর চাঁদপুর সদর উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ডা. মোহাম্মদ মুকবুল হোসেন প্রার্থী মোঃ আল মামুন পাটওয়ারীকে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’