শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ষাটনল ইউপির ৩নং ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করে গড়ে তুলবো : আক্কাছ আলী মোল্লা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১, ২:৫৫ পিএম
ষাটনল ইউপির ৩নং ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করে গড়ে তুলবো : আক্কাছ আলী মোল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা। প্রার্থীরা ঢাক-ডোল পিটিয়ে, বাঁশি বাজিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আক্কাছ আলী মোল্লা পিছিয়ে নেই তার নির্বাচনী প্রচারনায়।

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। যদি আমি নির্বাচনে জয় লাভ করি তাহলে ৩নং ওয়ার্ডকে একটি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবো। তবে কোন প্রকার অন্যায় করে কেউ পার পাবেনা। আমি ৩নং ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

যিনি ৩নং ওয়ার্ডের মানুষের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত, সৎ, যোগ্য, অসাধারন ব্যাক্তিত্ব, মানবিক গুনাবলির অধিকারী, ৩নং ওয়ার্ডের মাটি ও মানুষের আস্থার প্রতিক আক্কাছ আলী মোল্লা। তিনি ইতিমধ্যে তার নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক প্রচারনা, খেলাধুলো এবং বিভিন্ন সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে যুবসমাজ ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে একজন কর্মীবান্ধব প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। আর এতে তার নির্বাচনী এলাকা জুড়ে সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

সাংবাদিকের তিনি বলেন, প্রার্থী হিসেবে সকল জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সারা পাচ্ছি। সুষ্ঠ ভোট হলে আমার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই ৩ওয়ার্ডবাসীর বিপদে-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ওয়ার্ডবাসীর কাছে প্রতিদান চাইনা। আমি নির্বাচিত হলে মাদক রোধে সামাজিক সচেতনতা ও আন্দোলন গড়ে তুলবো। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা গ্রহন করে বেকার সমস্যা সামাধান করবো। বিভিন্ন ভাতাসহ সরকারের সকল প্রকার অনুদান শতভাগ নিশ্চিত করবো।

Model Hospital

সন্ত্রাস মুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করবো। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ে তুলতে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ড্রেন, জলাবন্ধতা, পানি নিস্কাশন, ময়লা, আবর্জানা অপসারণের ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

এছাড়াও বিভিন্ন খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকান্ডে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে ব্যস্ত রাখবো যাতে করে তারা মাদকের করাল থাবা থেকে বাঁচতে পারে।

পরিশেষে ৩নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন আমারা সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ওয়ার্ডকে আরো সুন্দর ও উন্নয়নশীল গড়ে তুলি। আর এই উন্নয়ন আর অগ্রগতির জন্য আপনারা সৎ ও যোগ্য মেধাবী প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। আর মনে রাখবেন ভোট আপনার অধিকার আপনারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। জয় আমাদের হবে ইনশা আল্লাহ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’