রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ অপরিহার্য; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২, ২:০৮ পিএম
টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ অপরিহার্য; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

চাঁদপুর জেলায় মতলব উত্তর উপজেলায় তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধন পরিদর্শন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।

মনিরুল ইসলাম মনির : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, মেধা ও চেষ্টায় কৃষির উন্নয়নে কৃষি কর্মকর্তারা কঠোর পরিশ্রম করে কৃষির উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। শেখ হাসিনা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ব্যাপক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতলবের মাটি খুবই উর্বর। তুলনামূলকভাবে জমির পরিমাণ কম হলেও মহান আল্লাহর রহমতে মতলবের মাটিতে যা চাষাবাদ করেন কৃষকরা সবই সোনার ফলন হয়। মেলাকে প্রাণবন্ত করতে মতলব উত্তরের সর্বসাধারণকে মেলা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী, ফেনী লক্ষীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় “কৃষিই সমৃদ্ধি” প্রতিপাদ্যে মতলব উত্তর উপজেলায় তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

চাঁদপুর জেলায় মতলব উত্তর উপজেলায় তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধন পরিদর্শন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ অপরিহার্য। আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষির বহুমুখিকরণের মাধ্যমেই কৃষির উন্নয়ন সম্ভব। আমাদের যে উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে তার সাথে স্থানীয় এবং আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে বাজারজাত নিশ্চিত করতে পারলে এসডিজি’র চ্যালেঞ্চ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, বাংলদেশের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানে কৃষির ভূমিকা অনেক। আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে পারলে আয় বাড়বে,আয় বাড়লে সক্ষমতা বাড়বে তখন মানুষের নিরাপদ ও পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য গ্রহণের হার বাড়বে।

Model Hospital

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। জনগণের জন্য পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করা। উৎপাদিত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন ও রপ্তানি বাড়াতে পারলে দেশের বাজারও সম্প্রসারণ হবে। কৃষক তার ফসলের ন্যায্য দাম পাবে। আরো বাড়বে কৃষি উৎপাদন। নিশ্চিত হবে নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্যের যোগান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশে কৃষি বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। দেশে অনেক ছেলে মেয়েদের চাকরী নেই, এদেরকে কৃষি ও মৎস্য খাতে সম্পৃক্ত করলে বেকারত্ব অনেকাংশে কমে যাবে, উৎপাদন ও বৃদ্ধি পাবে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের মাঝে সার বীজ বিতরণ করছে।তাই প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের মেলা করা গেলে নতুন নতুন কৃষি উদ্যেক্তা সৃষ্টি হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নুরুল আমিন রুহুল বলেন, কৃষিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি সফল রাষ্ট। কৃষিতে সরকারের অভ্তুপূর্ব সফলতার কারণ হলো কৃষকদের মাঝে স্বল্পমুল্যে কৃষি উপকরণ সঠিক সময়ে পৌছে দেওয়া এবং সমবন্টন করা। তিনি আরো বলেন-সারের জন্য এই সরকারের আমলে কৃষকেরা আর গুলি খেয়ে মরে না। তাই কৃষিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

চাঁদপুর জেলায় মতলব উত্তর উপজেলায় তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হাসানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন।

আরো বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. পাভেল খান পাপ্পু, সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফারুক, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুজাম্মেল হক, সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার, কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান।

এসময় উপজেলা আওয়ামী ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, কৃষক, কৃষাণী, নার্সারী মালিক ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। মেলায় ফলদ, ঔষধি, বনজসহ ১৩ টি স্টল শোভাবর্ধন করেছে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।