রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় অব্যাহত খরায় সেচ দিয়ে লাগানো হচ্ছে রোপা আমন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২, ২:০৮ পিএম
কচুয়ায় অব্যাহত খরায় সেচ দিয়ে লাগানো হচ্ছে রোপা আমন

মোঃ রাছেল : চাঁদপুরের কচুয়ায় অব্যাহত খরায় মাঠে মাঠে পানি না থাকায় সেচ দিয়ে লাগানো হচ্ছে রোপা আমন। জমিতে সেচ দিয়ে রোপা আমন লাগানোর কযেক দিন যেতে না যেতেই জমিতে পানির শুকিয়ে যায়। জমি ফেটে হয়ে যায় চৌচির। পুনরায় সেচ দিয়ে খেত রক্ষা করার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন- সবার উন্নতি হয়, উন্নতি হয় না কৃষকের, সবদিক দিয়ে সংকটে আছি আমরা। মাঠে নেই পানি রয়েছে শ্রমিক সংকট। সার ও ঔষধের দাম বাড়তি।

শুধুমাত্র জ্বালানি তৈলের দাম বাড়ায় পদে পদে খরচ বাড়ছে আমাদের। অথচ উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে গেলে বাজারে দাম নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্ষার ভরা মৌসুম শেষে বৃষ্টির অভাবে উপজেলার নূরপুর, তালতলি, আশ্রাফপুর,নোয়াগাঁ, ডুমুরিয়া, উজানী, বাসাবাড়িয়া, আকানিয়া, গোবিন্দপুর গ্রামের ফসলী মাঠে সদ্য রোপনকৃত আমন খেতগুলো শুকিয়ে রয়েছে। এঅবস্থায় কৃষক আবুল কালাম, আবেগ মিয়া,সিরাজুল ইসলাম, মিন্টু মিয়া, জালাল উদ্দিন ও মহসিন মিয়া তাদের জমিতে শ্যলো মিশনে সেচ দিয়ে আমন খেতে সার প্রয়োগ করছে।

এসময় তারা নানা সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, বীজ তলায় লাগানো চারা গাছের নিদিষ্ট বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। এঅবস্থায় সেচ দিয়ে রোপা লাগানো ছাড়া কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। সেচ দিয়ে রোপা লাগানোর কয়েক দিনের মাথায় পানি শুকিয়ে যায়। এতে পুন:সেচ দিয়ে রোপা রক্ষা করতে হচ্ছে। রোপা লাগানো জমিতে সার প্রয়োগ করতে হলেও সেচ দিতে হয়। প্রতিবারে সেচ দিতে গন্ডা প্রতি (৬শতক) প্রায় ২শত টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়। এছাড়া ও সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি, কৃষি শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমন চাষে উল্লেখযোগ্য খরচ বেড়েছে। এতে মৌসুম শেষে খরচ উঠা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুসারে, এবছর কচুয়া উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হচ্ছে। এদিকে অব্যাহত খরা ও প্রচন্ড খরমে মাঠের পর মাঠ শুকিয়ে যাওয়ায় কচুয়ায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধানের উৎপাদন বিনষ্ট হয়। কৃষকরা পায়নি কাংখিত বোনা আমন ফসল। এখন আবার বাড়তি অর্থ ব্যায় করে রোপা আমন লাগাতে কৃষকরা দারুন হিমশিম খাচ্ছে। সব মিলিয়ে কচুয়ার কৃষকরা দিশেহারা।

Model Hospital

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) সোফায়েল হোসেন জানান, রাসায়নিক সার ও জ¦ালালি তৈল সহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমন চাষে কৃষকদের খরচ বেড়ে গেছে। ধানের দাম বৃদ্ধি পেলে কৃষকের জন্য তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।