শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী ইকবাল হোসেন পলাশ পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২, ৫:৫৪ এম
চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী ইকবাল হোসেন পলাশ পাটওয়ারী
গাজী মোঃ মহসিন : আসন্ন চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য সদস্য পদপ্রার্থী হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন পলাশ পাটওয়ারী।
তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইকবাল হোসেন পলাশ পাটওয়ারী একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও সর্বমহলে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে সমাজ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার উন্নয়নে কাজ করতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দেন।
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) নিজ ইউনিয়ন ৫নং রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও সকল ইউপি সদস্যদের নিয়ে এক সৌজন্য স্বাক্ষাত ও মতবিনিময় সভা করেন।
রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মির্জা মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন লিটু, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হাজী।
নিজের প্রার্থিতা জানান দিয়ে সদস্য পদপ্রার্থী ইকবাল হোসেন পলাশ পাটওয়ারী বলেন, আমি আসন্ন চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হলে শাসক নয় জনগনের সেবক হয়ে কাজ করবো। তিনি আরও বলেন, এ এলাকার কৃতি সন্তান চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপিসহ ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া নিয়ে আমি জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করবো৷ আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতে জনগণের সেবক হিসেবে পাশে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান কাঞ্চন পাটওয়ারী, বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি শাহাদাত হোসেন জাকির, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাজী মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হোসাইন আহমেদ দুলাল, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মোহসীন খান, আবু সাঈদ বেপারী, রিপন পাটওয়ারী, মোঃ সেলিম মিজি, আবুল বাশার, সাকিবুল হাসান খান, হাসান রাজা, জসিম তালুকদার, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য আফরোজা বেগম, শাহীনা বেগম, সুলতানা বেগম এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হোসেন, পরিষদের সকল ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’