শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলী কামিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ৫:৩৮ পিএম
শাহতলী কামিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার শতবছরের ঐতিহ্যবাহী শাহতলী কামিল মাদরাসার আয়োজনে ২০২১ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় মাদারাসার নব-নির্মিত একাডেমিক ভবনের হলরুমে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথি দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি তোমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। আলিম পাশ করে তোমরা এ মাদরাসাতেই ফাজিলে পড়শুনা করতে পারবে। দীর্ঘ শত বছর পর এ মাদরাসায় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি’র সহযোগিতায় এ ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনটি হয়েছে। এজন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপিকে। শিক্ষকরা ভালোভাবে পাঠদান করতে হবে। যাতে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারে। শিক্ষকদের কাজ হচ্ছে পাঠদান করা, গভর্নিং বডির কাজ হচ্ছে উন্নয়নমূলক কাজ করা। যার যে দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে করায় আমি শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই। এ প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা খুবই প্রকট ছিল। তোমরা ভাগ্যবান তোমাদের এ নতুন ভবনে আজকের অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। আমরা চাই ভালো রেজাল্ট। পাবলিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পায়। এ মাদরাসার শিক্ষকরা অনেক মেধাবী ও কর্মঠ।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপিকে। তাদের সুচিন্তিত মনোভাবের কারনে অটোপাস না দিয়ে পরীক্ষার আয়োজনে করেছে।

মাদরাসা ২য় মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মান্নানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মো: মামুনুর রশিদ চৌধুরী, উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান, জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ, মাদরাসার নতুন ভবন নিমার্নের ঠিকাদার সুলতান।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শাহতলী কামিল মাদরাসা উপাধ্যক্ষ মাওলানা ইয়াছিন মিয়া, শিক্ষার্থীদের মধ্য বক্তব্য রাখেন, আলিম পরীক্ষার্থী মো: মোহিবুল্লাহ, মো: শরীফ হোসেন, মো: রাশেদ হোসেন, অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কামিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো: তানভীর হোসেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাদারাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসাইন, সহকারি অধ্যাপক কামাল হোসাইন, আরবী প্রভাষক মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ, আরবী প্রভাষক মহিউদ্দিন, ইংরেজী প্রভাষক মোহাম্মদুল্লা, বাংলা প্রভাষক মো: বেলায়েত হোসেন মিজি, আরবী প্রভাষক মাওলানা এ.এন.এম হেলাল উদ্দিন, সহকারি মৌলভী হাফেজ জহিরুল হক, সিনিয়র মৌলভী মাওলানা মিজানুর রহমান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা বাহাউদ্দিন, সহকারি শিক্ষক হাবিবুর রহমান, সহকারি লাইব্রেরীয়ান আহসান হাবীব, ইবতেদায়ী প্রধান শরীফ মো: মোস্তফা খান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম গাজী, সহকারি শিক্ষক আহসান হাবীব, হিসাব রক্ষক মো: শরিফুর রহমান খানসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে আলিম পরীক্ষার্থীদের পক্ষ মাদরাসায় গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী’র হাতে উপহার তুলে আলিম পরীক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন, শাহতলী কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী মো: মহিবুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।

সবশেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপির সহযোগিতায় মাদরাসার ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের কাজ পরির্দশন করেন, চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মো: মামুনুর রশিদ চৌধুরী, উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসানসহ অন্যান্যরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী , অধ্যক্ষ মাওলানা বিলাল হোসাইন ও ঠিকাদার সুলতান ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’