ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পদ্মা-মেঘনায় সাড়ে ৪ হাজার জেলে আটক; ৬১৫ জনের কারাদন্ড ও ১২৮ কোটি মিটার জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর নৌ-সীমানায় মা’ইলিশ রক্ষা কল্পে প্রজনন মৌসুমের কারণে ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রিতে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১২টায়। দেশের ৬টি অভয়াশ্রমসহ চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরতে নদীতে নেমেছে ৪৪ হাজার ৩৫জন জেলে পরিবার।

Model Hospital

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে চাঁদপুর নৌ-সীমানাসহ সকল নদ-নদীতে ইলিশ ধরা ও মৎস্য আড়তে, হাট-বাজারে বিক্রয় ও পরিবহন আবার শুরু হয়েছে দেদারছে। এতে কোন প্রকার বাধা থাকলোনা। সকল জেলে আপন মনে নিজেদের ইচ্ছে মত যে যেখানে ইচ্ছা সেখানেই ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ শিকার ও নিধন করতে কোন বাধা নেই। জাল যার জলা তার এ শ্লোগানের আলোকে নদীতে মাছ ধরতে মেতে উঠতে জেলেরা। এ বছর জেলা প্রশাসন অভিযানে ধরা পড়া ৬১৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এবার মা ইলিশ রক্ষায় জেলা ট্রাস্কফোর্সের অভিযানের সময় জেলেরা সরকারের চাল পেয়েও নদীতে নিজেদের ইচ্ছামত অবাধে মা’ইলিশ মাছ ব্যাপক আকারে নিধন করেছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। চাঁদপুর সদর,হাইমচর,মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার পদ্মা-মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকার জেলেরা আইন অমান্য করে মা’ ইলিশ শিকার করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের পর্যবেক্ষণে জানা যায়।

অভিযানের সময় প্রতিদিন দিনেতো মা’ইলিশ নিধন হয়েছেই। তবে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত শত শত জেলে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছে। রাতের অন্ধকারে নদীর পাড়েই বিক্রি হতো ডিমওয়ালা মা’ ইলিশ। আর সে মা’ইলিশ সস্তা পেয়ে ব্যাগ আর বস্তায় ভরে বাড়ি নিয়ে যেতে দেখা যায় অনেক অসচেতন ক্রেতাকে।

এসব অভিযানে সাড়ে ৪ হাজার জেলে আটক ও মা’ইলিশ আহরিত হওয়া ৪২হাজার ৩৮ কেজি ইলিশ জব্দ, নৌপুলিশ ১২৮ কোটি মিটার জাল জব্দ করেছে এবং চার শতাধিক মামলা করেছে। জব্দকরা জাল যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকা। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৮০টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৬১ হাজার ৭শ’ টাকা। কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে ১৭৩ জেলেকে। দুটি নৌকা নিলামে বিক্রি হয়েছে ৭৭ হাজার ৩শ’ ৫০ টাকা। এছাড়া নৌ পুলিশ কর্তৃক আটককৃত জেলেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে ৭৮টি। এসব মামলায় জেল হয়েছে ৪৪২জন জেলের।

জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুর জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ৩৮৯টি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ১৮০ মামলায় ১৭৩ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, অভিযানের ২২ দিনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয় ৮৮টি। পরিদর্শন করা হয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ৪৪টি, মাছঘাট ২৯০টি, আড়ৎ ৩৪৫৭টি এবং বাজার ১০৫২টি।

এ বছর লক্ষ্য করা গেছে,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বাধা ছিল না ইলিশ পরিবহনের ক্ষেত্রে। গ্রাম গ্রামে ঢুকে ফেরি করেও ইলিশ বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইলিশ কেনার জন্য নদীর পাড়ের চিহ্নিত স্থানগুলোতে মানুষের জটলা থাকতো গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। লুকোচুরি করে মাছ ধরে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিয়েছে একশ্রেণীর অসাধু মৌসুমী জেলে,দাদনদার ও আড়ত মালিকরা।

প্রজনন মৌসুম হওয়ায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা পরিবহন সংরক্ষণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর। তবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অপরাধে চাঁদপুরে ৬১৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকরা। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

অপরদিকে এ বছর মহা আনন্দেও মহা উৎসবের মধ্যদিয়ে চাঁদপুরে প্রশাসনের ব্যাপক দৃস্টি ও অভিযান থাকার পর ও তাদের চোঁখের আড়ালে ও দৃস্টিগোচর করে নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে প্রকাশ্যে প্রতিবন্ধী, শিশু-কিশোরদের মাধ্যমে পালিয়ে-পালিয়ে ব্যাপক ভাবে মা’ইলিশ নিধন করে ২২দিনের অভিযানের সময়। পদ্মা ও মেঘনায় মা’ইলিশ আর পানিতে সমানে-সমান। নদীতে কারেন্ট জাল ফেলা মাত্র জাঁকে-জাঁকে মা’ইলিশ জেলেদের জালে আটকা পরে নদী থেকে উঠে এসেছে বলে জেলেরা জানান।

এতে করে জেলেরা সে লোভ সামাল দিতে না পেরে গোপনে তারা মা’ইলিশ ধরা ্অপরাধ জেনেও মা”ইলিশ নিধন কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাদের নদীতে জাল ফেলা নিষেধ থাকলে,ও তার পরও তারা জীবনের ঝুকি নিয়ে নদীতে নেমে মা’ইলিশ শিকার করছে। জেলেদের ভাষায় বর্তমান সময়ে নদীতে জাল ফেলা মাত্র মা’ ইলিশ প্রচুর জালে আটকা পড়ছে। তারা জানান, মা’ইলিশ লোনা পানি থেকে ডিম ছাড়ার জন্য পদ্মা-মেঘনা নদীর মিঠা পানিতে এসেছে। এখন নদীতে মাছে আর পানিতে সমান অবস্থান রয়েছে। কারেন্ট জাল ফেলে কেহ খালি হাতে ফিরছেনা। এক বার জাল ফেললে ৫/৬ মন ডিম ওয়ালা ইলিশ জালে আটকা পড়ে।
এখন এ মাছ না ধরলে ডিম ছাড়ার পর এ মাছ এ নদীতে আর থাকবেনা।

এদিকে চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে লোনা পানির ও সমুদ এলাকা থেকে প্রচুর পরিমানে মা’ ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য আসে। এ সব ইলিশ ধরার জন্য অবৈধ জেলেরা নিষিদ্ব কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা’ ইলিশ নিধন করে। এ সব জেলেদের প্রতিরোধ করার জন্য নদীতে পর্যাপ্ত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যার ফলে জেলেরা নিজেদের ইচছা মত প্রতিবন্ধী ও ছোট,ছোট শিশু কিশোরদের মাধ্যমে মা’ ইলিশ নিধন করায়। নিধন করা মা’ ইলিশ নদীর কুলবর্তী এলাকায় হাট বসিয়ে প্রকাশে বিক্রি করেছে। মেঘনা নদীর হরিনা,আখনের হাট,দোকানঘর,বহরিয়া,আলুর বাজার,আনন্দ বাজার,কোড়ালিয়া নদীর পাড়,টিলাবাড়ি,পুরানবাজার হরিসভা,নন্দিগো দোকান,চান্দ্রা নদীর পাড়,লক্ষীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এ মা’ ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা যায়।

অনেক অসাধূ জেলে ইলিশের লোভ সামলাতে না পেরে তাদের শিশু-কিশোরদের মাধ্যমে প্রজনন মৌসুমের মা’ইলিশ নিধন করে দেশের সম্পদ নস্ট করে নিজেরা লাভবান হচেছ। চাঁদপুর-নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে দিনে ও রাতে অবাদে ছোট-ছোট শিশু ও কিশোরদের মাধ্যমে মা’ইলিশ নিধন করে। এ মা’ ইলিশ রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্স,নৌ-পুলিশ,কোস্টগার্ড ও জেলা প্রশাসন যৌর্থ ও ভিন্নভিন্ন অভিযান করে কারেন্ট জাল,নৌকা,মা’ইলিশ জব্দ ও জেল জরিমানা ও দন্ড দিলেও কোন সমাধান হয়নি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান জানান, ‘পদ্মা-মেঘনায় মিঠা পানিতে মা’ ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়। এ সময় ইলিশের আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়,মজুদ ও পরিবহণ নিষিদ্ধ থাকে। ইলিশের এ প্রজনন সময়ে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের ৪৪ হাজার ৩৫ জেলেকে ভিজিএফ’র চাল দেওয়া হয়েছে।’তার পর জেলেরা অবৈধ পন্থায় মা’ইলিশ নিধন করেছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান আরো বলেন, ২২ দিন জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার প্রাায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। মা ইলিশ রক্ষার এই অভিযানে আমরা সফল হয়েছি। কারণ জেলা ট্রাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত ছিল।
আমাদের এ অভিযানে ধরা পড়া ৬১৫ জন জেলেকে কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন’র চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোক্তা মিটআপ

পদ্মা-মেঘনায় সাড়ে ৪ হাজার জেলে আটক; ৬১৫ জনের কারাদন্ড ও ১২৮ কোটি মিটার জাল জব্দ

আপডেট সময় : ০২:২৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর নৌ-সীমানায় মা’ইলিশ রক্ষা কল্পে প্রজনন মৌসুমের কারণে ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রিতে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১২টায়। দেশের ৬টি অভয়াশ্রমসহ চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরতে নদীতে নেমেছে ৪৪ হাজার ৩৫জন জেলে পরিবার।

Model Hospital

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে চাঁদপুর নৌ-সীমানাসহ সকল নদ-নদীতে ইলিশ ধরা ও মৎস্য আড়তে, হাট-বাজারে বিক্রয় ও পরিবহন আবার শুরু হয়েছে দেদারছে। এতে কোন প্রকার বাধা থাকলোনা। সকল জেলে আপন মনে নিজেদের ইচ্ছে মত যে যেখানে ইচ্ছা সেখানেই ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ শিকার ও নিধন করতে কোন বাধা নেই। জাল যার জলা তার এ শ্লোগানের আলোকে নদীতে মাছ ধরতে মেতে উঠতে জেলেরা। এ বছর জেলা প্রশাসন অভিযানে ধরা পড়া ৬১৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এবার মা ইলিশ রক্ষায় জেলা ট্রাস্কফোর্সের অভিযানের সময় জেলেরা সরকারের চাল পেয়েও নদীতে নিজেদের ইচ্ছামত অবাধে মা’ইলিশ মাছ ব্যাপক আকারে নিধন করেছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। চাঁদপুর সদর,হাইমচর,মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার পদ্মা-মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকার জেলেরা আইন অমান্য করে মা’ ইলিশ শিকার করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের পর্যবেক্ষণে জানা যায়।

অভিযানের সময় প্রতিদিন দিনেতো মা’ইলিশ নিধন হয়েছেই। তবে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত শত শত জেলে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছে। রাতের অন্ধকারে নদীর পাড়েই বিক্রি হতো ডিমওয়ালা মা’ ইলিশ। আর সে মা’ইলিশ সস্তা পেয়ে ব্যাগ আর বস্তায় ভরে বাড়ি নিয়ে যেতে দেখা যায় অনেক অসচেতন ক্রেতাকে।

এসব অভিযানে সাড়ে ৪ হাজার জেলে আটক ও মা’ইলিশ আহরিত হওয়া ৪২হাজার ৩৮ কেজি ইলিশ জব্দ, নৌপুলিশ ১২৮ কোটি মিটার জাল জব্দ করেছে এবং চার শতাধিক মামলা করেছে। জব্দকরা জাল যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকা। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৮০টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৬১ হাজার ৭শ’ টাকা। কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে ১৭৩ জেলেকে। দুটি নৌকা নিলামে বিক্রি হয়েছে ৭৭ হাজার ৩শ’ ৫০ টাকা। এছাড়া নৌ পুলিশ কর্তৃক আটককৃত জেলেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে ৭৮টি। এসব মামলায় জেল হয়েছে ৪৪২জন জেলের।

জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুর জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ৩৮৯টি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ১৮০ মামলায় ১৭৩ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, অভিযানের ২২ দিনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয় ৮৮টি। পরিদর্শন করা হয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ৪৪টি, মাছঘাট ২৯০টি, আড়ৎ ৩৪৫৭টি এবং বাজার ১০৫২টি।

এ বছর লক্ষ্য করা গেছে,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বাধা ছিল না ইলিশ পরিবহনের ক্ষেত্রে। গ্রাম গ্রামে ঢুকে ফেরি করেও ইলিশ বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইলিশ কেনার জন্য নদীর পাড়ের চিহ্নিত স্থানগুলোতে মানুষের জটলা থাকতো গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত। লুকোচুরি করে মাছ ধরে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিয়েছে একশ্রেণীর অসাধু মৌসুমী জেলে,দাদনদার ও আড়ত মালিকরা।

প্রজনন মৌসুম হওয়ায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা পরিবহন সংরক্ষণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর। তবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অপরাধে চাঁদপুরে ৬১৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকরা। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

অপরদিকে এ বছর মহা আনন্দেও মহা উৎসবের মধ্যদিয়ে চাঁদপুরে প্রশাসনের ব্যাপক দৃস্টি ও অভিযান থাকার পর ও তাদের চোঁখের আড়ালে ও দৃস্টিগোচর করে নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে প্রকাশ্যে প্রতিবন্ধী, শিশু-কিশোরদের মাধ্যমে পালিয়ে-পালিয়ে ব্যাপক ভাবে মা’ইলিশ নিধন করে ২২দিনের অভিযানের সময়। পদ্মা ও মেঘনায় মা’ইলিশ আর পানিতে সমানে-সমান। নদীতে কারেন্ট জাল ফেলা মাত্র জাঁকে-জাঁকে মা’ইলিশ জেলেদের জালে আটকা পরে নদী থেকে উঠে এসেছে বলে জেলেরা জানান।

এতে করে জেলেরা সে লোভ সামাল দিতে না পেরে গোপনে তারা মা’ইলিশ ধরা ্অপরাধ জেনেও মা”ইলিশ নিধন কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাদের নদীতে জাল ফেলা নিষেধ থাকলে,ও তার পরও তারা জীবনের ঝুকি নিয়ে নদীতে নেমে মা’ইলিশ শিকার করছে। জেলেদের ভাষায় বর্তমান সময়ে নদীতে জাল ফেলা মাত্র মা’ ইলিশ প্রচুর জালে আটকা পড়ছে। তারা জানান, মা’ইলিশ লোনা পানি থেকে ডিম ছাড়ার জন্য পদ্মা-মেঘনা নদীর মিঠা পানিতে এসেছে। এখন নদীতে মাছে আর পানিতে সমান অবস্থান রয়েছে। কারেন্ট জাল ফেলে কেহ খালি হাতে ফিরছেনা। এক বার জাল ফেললে ৫/৬ মন ডিম ওয়ালা ইলিশ জালে আটকা পড়ে।
এখন এ মাছ না ধরলে ডিম ছাড়ার পর এ মাছ এ নদীতে আর থাকবেনা।

এদিকে চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে লোনা পানির ও সমুদ এলাকা থেকে প্রচুর পরিমানে মা’ ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য আসে। এ সব ইলিশ ধরার জন্য অবৈধ জেলেরা নিষিদ্ব কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা’ ইলিশ নিধন করে। এ সব জেলেদের প্রতিরোধ করার জন্য নদীতে পর্যাপ্ত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যার ফলে জেলেরা নিজেদের ইচছা মত প্রতিবন্ধী ও ছোট,ছোট শিশু কিশোরদের মাধ্যমে মা’ ইলিশ নিধন করায়। নিধন করা মা’ ইলিশ নদীর কুলবর্তী এলাকায় হাট বসিয়ে প্রকাশে বিক্রি করেছে। মেঘনা নদীর হরিনা,আখনের হাট,দোকানঘর,বহরিয়া,আলুর বাজার,আনন্দ বাজার,কোড়ালিয়া নদীর পাড়,টিলাবাড়ি,পুরানবাজার হরিসভা,নন্দিগো দোকান,চান্দ্রা নদীর পাড়,লক্ষীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এ মা’ ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা যায়।

অনেক অসাধূ জেলে ইলিশের লোভ সামলাতে না পেরে তাদের শিশু-কিশোরদের মাধ্যমে প্রজনন মৌসুমের মা’ইলিশ নিধন করে দেশের সম্পদ নস্ট করে নিজেরা লাভবান হচেছ। চাঁদপুর-নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে দিনে ও রাতে অবাদে ছোট-ছোট শিশু ও কিশোরদের মাধ্যমে মা’ইলিশ নিধন করে। এ মা’ ইলিশ রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্স,নৌ-পুলিশ,কোস্টগার্ড ও জেলা প্রশাসন যৌর্থ ও ভিন্নভিন্ন অভিযান করে কারেন্ট জাল,নৌকা,মা’ইলিশ জব্দ ও জেল জরিমানা ও দন্ড দিলেও কোন সমাধান হয়নি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান জানান, ‘পদ্মা-মেঘনায় মিঠা পানিতে মা’ ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়। এ সময় ইলিশের আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়,মজুদ ও পরিবহণ নিষিদ্ধ থাকে। ইলিশের এ প্রজনন সময়ে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের ৪৪ হাজার ৩৫ জেলেকে ভিজিএফ’র চাল দেওয়া হয়েছে।’তার পর জেলেরা অবৈধ পন্থায় মা’ইলিশ নিধন করেছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান আরো বলেন, ২২ দিন জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার প্রাায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। মা ইলিশ রক্ষার এই অভিযানে আমরা সফল হয়েছি। কারণ জেলা ট্রাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত ছিল।
আমাদের এ অভিযানে ধরা পড়া ৬১৫ জন জেলেকে কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে।