বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ আ’লীগের সভাপতি হতে চান নিভৃতচারী সমাজসেবী ছিদ্দিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ৪:০৪ পিএম
ফরিদগঞ্জ আ’লীগের সভাপতি হতে চান নিভৃতচারী সমাজসেবী ছিদ্দিকুর রহমান

এস এম ইকবাল : ‘মানুষের বিপদে মানুষ পাশে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। তবে, বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে তা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচার করতে হবে এমন চিন্তায় আমি বিশ্বাসি নই। মানুষের পাশে থেকে ভালো কাজে সহায়তা করা দলমত নির্বিশেষে সবারই দায়িত্ব। আল্লাহ আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন সে অনুসারে ভালো কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামীতে আরও বেশি বেশি কাজ করার জন্য সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগীতা চাই।’ মহানুভবতায় ভরপুর এ কথাগুলো বলছিলেন নিভৃতচারী সমাজসেবক, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ছিদ্দিকুর রহমান পাটওয়ারী। ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি সভাপতি পদ প্রার্থী।

ফরিদগঞ্জে উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনসহ রাজনীতির নানান বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের চতুথ পর্বে রয়েছে আলহাজ্ব মো. ছিদ্দিকুর রহমান পাটওয়ারীকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

একজন নিভৃতচারী-সমাজসেবী ছিদ্দিকুর রহমান পাটওয়ারী। ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। জনগণের কল্যাণে অসংখ্য ভালো কাজ করলেও তিনি সব সময় নিজেকে আড়ালেই রেখেছেন। ব্যবসায়ীক কাজে শত ব্যস্ততার মাঝেও গত দুই দশক ধরে ফরিদগঞ্জ আ’লীগের নেতা-কর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থেকে সহযোগীতার চেষ্টা করেছেন।

মানুষের কল্যাণে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন এ নেতা। প্রচারবিমুখ ছিদ্দিকুর রহমান ব্যবসার পাশাপাশি নিজেকে জড়িত রেখেছেন আ’লীগের রাজনীতির সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন তিনি। ২০০৫ সালে গঠিত উপজেলা আ’লীগের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে উপজেলা আ’লীগের কমিটিতে সহ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আমদানি-রপ্তানি, ঠিকাদারির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

Model Hospital

সম্প্রতি উপজেলা আ’লীগের সভাপতি পদে নিজেকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিয়ে এলাকায় পোস্টারিং করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সভাপতি পদে প্রার্থীতা নিয়ে সরগরম তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা।

ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ফরিদগঞ্জে যে ৬টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলো তার মধ্যে আমাদের বাড়িটিও ছিলো। মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সন্তান আমি। জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগের একজন ক্ষুদ্রকর্মী হিসেবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সাংগঠনিকভাবে দায়িত্বশীল পদে থাকলে জনগণের কল্যাণে অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। ফরিদগঞ্জ উপজেলা আ’লীগকে সুসংগঠিত করতে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি।

দলীয় কার্যক্রম সর্ম্পকে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফরিদগঞ্জে আ’লীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রমে গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে। বিশেষ করে সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সকল কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্যদের স্থান দিতে হবে। কে কার লোক সেটি বিষয় নয়। সে আ’লীগ করে কিনা তা হচ্ছে দেখার বিষয়। আমি দলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং বুঝি না। দায়িত্ব পেলে দলকে সুন্দরভাবে চালানোর শতভাগ চেষ্টা করবো।

অপরএক প্রশ্নের জবাবে ছিদ্দিক পাটওয়ারী বলেন, চাঁদপুর জেলা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি ড. শামছুল হক ভুঁইয়া। এখনো তিনি ফরিদগঞ্জে আ’লীগের একটি স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছেন। তবে গত ৪ বছর ফরিদগঞ্জে আ’লীগ অনেকটাই হ-য-ব-র-ল হয়ে গেছে। এর মূল কারণই হচ্ছে দলের ত্যাগীকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া। তবে এখানে এমপি লীগ কিংবা ভাইলীগ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। দলের সিনিয়র মুরব্বি হিসেবে একেকজনের সঙ্গে একেকজন সর্ম্পক রাখতেই পারেন। আর বড় দলের গ্রুপিং থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের স্বার্থে সকল মত পার্থক্য ভুলে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।

চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় সম্মেলন হলেও এখানে কেন হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৭/১৮ সালে ফরিদগঞ্জে আ’লীগের বেশ কিছু ইউনিয়নের সম্মেলন হলেও এখনো অনেকগুলো বাকি আছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন না হওয়ার পিছনে এটি একটি কারণ হতে পারে। আর আমিতো দলের নীতিনির্ধারক না, সিনিয়র নেতারাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

সামাজিক কার্যক্রম সর্ম্পকে ছিদ্দিক পাটওয়ারী বলেন, আমার সামর্থ্য অনুসারে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় অনেক বেকারকে গরু কিনে দিয়েছি, গৃহহীনের ঘর নির্মাণে ঢেউটিন প্রদান করেছি, অসহায়ের চিকিৎসা ক্ষেত্রে আর্থিক সহয়াতা ও গরীব-অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণে সহায়তা দিয়ে আসছি। রাজনীতিতে যে পর্যায়ে আমি থাকি না কেনো এ সহায়তা সব সময় অব্যাহত থাকবে। কারণ রাজনীতির প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের কল্যাণ।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’