শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সরকারি কলেজে স্বাস্থ্য বিষয়ক মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১, ১২:৪৯ পিএম
চাঁদপুর সরকারি কলেজে স্বাস্থ্য বিষয়ক মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান

ক্যাম্পাস রিপোর্ট : রবিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর দুটায় চাঁদপুর সরকারি কলেজের রাজু ভবনের ১০৮ নং কক্ষে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেস্টস সোসাইটি (বিএমএসএস) এর উদ্যোগে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার ‘‘চারুর হাসিমুখ’’ অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রায় দুইশত ছাত্রী এতে অংশগ্রহণ করে।

প্রফেসর অসিত বরণ দাশ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর অসিত বরণ দাশ স্বাস্থ্য বিষয়ক এ ধরণের একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। ভবিষৎ এ চাঁদপুর সরকারি কলেজ এবং চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে আরো সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আলোচ্য সেমিনার থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্য ছাত্রীদের মাঝে শেয়ার করার জন্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নির্দেশ প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে পিসিওএস (পলি সিস্ট ওভারিয়ান সিনডোম) বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

প্রানবন্ত সঞ্চালনায় ছিলেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার প্রান্তি। তাকে সহযোগিতা করেন ৩য় বর্ষের রিপা তামিমা, তাসকিন ফারাহ, কামরুন নাহার কেয়া, মাহফুজা আফরিন তমা, জান্নাতুন নাহার ঝুমি, সাবরিনা তাবাস্্সুম ফারিন, শামছুন নাহার হেনান, জাহিন বানজিবা প্রমা, শাহরিয়ার হক, সফওয়াত সাইফ উল্লাহ এবং সাফায়াত সাজিদ। মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের রিজোয়ানা ইসলাম, সানিলা সারা, মারিয়া আলম, অর্পিতা মজুমদার, রনফুজ্জামান অরিন, হীরা মনি, নাবিলা নাহরীন এবং তানিশা তানজীম তকী উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

চাঁদপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবুল খায়ের সরকার, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ আনিসুল ইসলাম, পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বাহার, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল হাছান এবং ডেফোডিল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জামশেদের রহমান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুলতানা তৌফিকা আক্তার, প্রভাষক রোকসানা আক্তার, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নিশাত আমিন, এস এম জাকিয়া জাহান, সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক নাশিদ সিফাত এবং রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক লিজা আক্তার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’