বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গাড়ির টিকেট বিক্রেতা থেকে ফরিদগঞ্জের পৌর মেয়র হওয়া খায়ের পাটোয়ারী

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৪৯ পিএম
গাড়ির টিকেট বিক্রেতা থেকে ফরিদগঞ্জের পৌর মেয়র হওয়া খায়ের পাটোয়ারী
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ পৌরসভাটি ২০০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর স্থাপিত হয়। যার আয়তন ১৯.৭৫ বর্গ কিঃমি। এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ৩৪,৬১১ জন। ২০২১ সালের ১৪ মার্চ ফরিদগঞ্জ পৌরসভার দায়িত্বে আসেন এক সময়ে ফরিদগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াতকারী পরিবহনের টিকেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহকারী ও পরবর্তিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী। বৃদ্ধ বয়সে পৌর মেয়র হওয়ায় পৌরসভার সকল বিষয়ে ক্ষমতার জোরে সিদ্ধান্ত নিতেন তিনি।
স্থানীয় সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের একমাত্র কন্যা নাজমুনন্নাহার অনির হাতে তুলে দিয়েছেন বলা চলে পৌরসভার দায়িত্ব, বাবার স্বেচ্ছাচারীতার মধ্যদিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনি হয়ে উঠেন অঘোষিত মেয়র। বাবা আবুল খায়ের পাটোয়ারী ও মেয়ে নাজমুন্নাহার অনির হাতে জিম্মি ছিলেন পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দারোয়ান পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাউন্সিলররা। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার অফিসের চেকবই ছিনিয়ে নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো টাকা হাতিয়ে নিতেন মেয়র কন্যা। মেয়র কন্যার জিম্মায় থাকত পৌরসভার সকল চেকবই। সময়মতো বেতন থেকে বঞ্চিত হতেন কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।
মেয়র আবুল খায়ের পাটোয়ারীর মেয়ে চেকবই ছিনিয়ে নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে পৌর সচিব শাহ সুফিয়ান জানান, দীর্ঘদিন পৌরসভার চেকবই তার কাছে ছিল, ৫ আগস্টের পর পৌরসভার অফিস সহকারী দীনেশের মাধ্যমে চেকবই অফিসে প্রেরণ করেন। তার ক্ষমতার সময়ে আমরা ভয়ে প্রতিবাদ তো দূরের কথা, কথাও বলতে পারিনি। পৌরসভার ৭ জন কর্মচারী নিয়োগে ৩০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে মেয়রকন্যার বিরুদ্ধে। এছাড়া মেয়রকন্যা বাজার ও বাসস্ট্যান্ড ইজারা বাবদ হাতিয়ে নিতেন প্রতি বছর ১০ লাখের অধিক টাকা। পৌরসভার উন্নয়ন খাতে প্রকল্পের কাজে বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিতেন লক্ষ লক্ষ টাকা। গোপালগঞ্জে শশুরবাড়ি থাকা সত্ত্বেও স্বামীর সাথে না থেকে মেয়র পিতার ক্ষমতায় আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন ফরিদগঞ্জে। জিম্মি করে রাখেন পৌরবাসীকে।
পৌর ক্যাশিয়ার থেকে জানা যায়, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ফাতেহা এন্টারপ্রাইজের নাম ব্যবহার করে কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই মেয়রকন্যা। পৌরসভার সকল ক্ষেত্রে তার অধিপত্য বিস্তার ছিল। অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ছিল মেয়রকন্যার কাজ। গাড়ির টিকেট বিক্রি করে চলতে হত আবুল খায়ের পাটোয়ারীর সংসার।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময়ে মেয়র হয়ে মেয়েকে ব্যবহার করে গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। নিজ এলাকাতেই করেন দুইটি বাড়ি।
আবুল খায়ের পাটোয়ারী পৌর মেয়রের দায়িত্বগ্রহণের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার মেয়ে নাজমুনন্নাহার অনি প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকার গাড়ির মালিক বনে যান। কখনো গাড়িতে সাংবাদিক, কখনো পুলিশ আবার মুক্তিযোদ্ধা লেখা স্টিকার লাগিয়ে পুলিশের হর্ন বাজিয়ে যাতায়াত করতেন নিয়মিত। বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে থাকেন। দুর্নীতি ও কালো টাকার জোরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ফরিদগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখেন মেয়রকন্যা। ১৭ জন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে নাজমুনন্নাহার অনি ছিলেন একজন। কিন্তু মনোনয়নথেকে হোন বঞ্চিত।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন হলে এক এক করে মুখ খুলতে শুরু করেন ভুক্তভোগীরা।
বর্তমানে আত্মগোপণে রয়েছেন সদ্য সাবেক মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী ও তার কন্যা নাজমুন্নাহার অনি।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা, মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র এবং ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই হেলাল খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা বহু লোককে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও স্থগিত ঘোষিত দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে আসামিরা বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করে এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান দেয়।

খবর পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশি এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশবিরোধী প্রচারণা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

Model Hospital

মামলায় আসামিরা হলেন, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা কৃষকলিগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হারুনুর রশিদ (৪৮), ছাত্রলীগের কর্মী জাহিদ আহমেদ (২৫), মুন্না খান (২৩), সাব্বির (২২), মিনহাজ (২১), তুহিন (২৪), ওয়াসিব (২৩), সৈকত (২২), শামীম (২৪), রাসেল মিজি (২৮), আওয়ামী লীগ নেতা জিএম হাসান তাবাস্সুম (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন (২১), সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুল হক (৪৫), উপজেলা যুবলীগের সদস্য পুতুল সরকার (৪২), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মেম্বার (৪৫), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল চৌধুরী (৩৫), ১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মাহমুদুল হাসান মিরাজ (৩৭), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সে্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম কাউছার উল আলম কামরুল (৪৫), পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহাম্মদ রাজন (৪০), উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মশিউর রহমান মিঠু (৫২), গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন ভুইয়া (৩৬), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন রিপন (৪২), ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাত্তার ছৈয়াল (৫৫), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ২ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মেম্বার(৩৮), গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন খাঁন (২৮),গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ‌ নেতা মোঃ শাকিল ভূইয়া (২৫), ইয়াছিন খাঁন (২৫), মোঃ মাসুদ রাঢ়ী (৩০), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সাউদ (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী (৩০), যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে কামরুল সরকার (৩৫), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের‌ সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজমুদার (৪৮), ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব শেখ (৩২) এর বিরুদ্ধে এজহার নামিয় আসামি করে আরো অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, অবৈধভাবে জনসমাবেশ করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চক্রান্তের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বালিথুবা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।