বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে লঞ্চের সিটে বসা নিয়ে তর্ক, যাত্রীকে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ২:০০ পিএম
চাঁদপুরে লঞ্চের সিটে বসা নিয়ে তর্ক, যাত্রীকে হত্যা
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : লঞ্চের সিটে বসা নিয়ে তর্কের জেরে চাঁদপুরে সুমন গাজী নামের এক যাত্রীকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

জেলার লঞ্চঘাট এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

৩২ বছর বয়সী সুমন চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী এলাকার স্বপন গাজীর ছেলে। তিনি ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায় ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টায় ঢাকা থেকে এমভি সোনার তরী-৩ লঞ্চে করে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন সুমন। লঞ্চটি চাঁদপুরের কাছাকাছি এলে বাবু নামের যাত্রীর সঙ্গে সিটে বসা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় তার। রাত সোয়া ১১টার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে ভিড়লে বাবু ও তার সঙ্গীরা সুমনকে বেদম মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। পরে সুমনের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেন তারা।

Model Hospital

গুরুতর আহত সুমনকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

সুমনের মেজো ভাই শরিফ গাজী বলেন, ‘সম্প্রতি দুই লাখ টাকা ঋণ করে এলাকায় জমি কিনে সে। সেই টাকার মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে চাঁদপুর যাচ্ছিল সুমন। সে খুব সহজসরল ছেলে। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম জানান, সুমনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

চাঁদপুর নৌ থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।