শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিকদের দাবী আদায় ও সম্মাণ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে; ওচমান গণি পাটোয়ারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ১১:৫২ এম
সাংবাদিকদের দাবী আদায় ও সম্মাণ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে; ওচমান গণি পাটোয়ারী
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী বলেছেন, সময়ের চাহিদায় চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ক্লাবটি গঠিত হওয়ায় আমি খুব খুশি। প্রকৃতপক্ষে এটা সত্য যে মফস্বল সাংবাদিকদের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জেলায় এমন একটি সাংবাদিক সংগঠনের খুবই প্রয়োজন ছিলো। দেড়িতে হলেও এটি গঠিত হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের দাবী আদায় ও সম্মাণবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
২৬ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে জেলা পরিষদের হল রুমে জেলা সাংবাদিক ক্লাবের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ওচমান গণি পাটওয়ারী আরও বলেন, জাতির বিবেক সাংবাদিকদের স্বার্থে যেকোন প্রয়োজনে জেলা পরিষদ পাশে থাকবে। মফস্বল সাংবাদিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে গঠিত চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ক্লাবে আমার পূর্ণ সমর্থণ থাকবে। তবে কোন ব্যাক্তির অসৎ স্বার্থকে চরিতার্থ করার জন্য যেন এই সংগঠনের সহযোদ্ধারা জড়িত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ। আমি এবং আমার জেলা পরিষদের সবাই সাথে নিয়ে দ্রুতই জেলা সাংবাদিক ক্লাবের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের উদ্যোগ নিবো।
চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা সাংবাদিক ক্লাবের কার্য নির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত, সহ-সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ডালিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম. মাসুদ, রফিকুল ইসলাম বাবু, এনায়েত মজুমদার, প্রচার সম্পাদক শ্যামল সরকার, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অমরেশ দত্ত জয়, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আশিক বিন রহিম, মহিলা সম্পাদিকা সাবিত্রী রানী ঘোষ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ খান, কার্য নির্বাহী সদস্য ইফতেখার আলম মাসুম, জাহাঙ্গীর হোসেন, মহিউদ্দিন আল আজাদ, মোঃ হাসানুজ্জামান, আলমগীর হোসেন, মনির হোসেন প্রমূখ।
এসময় আর উপস্থিত ছিলেন জেলা সাংবাদিক ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম রাজু, আইন বিষয়ক সম্পাদক সায়েদ ছালাম, লাইব্রেরিয়ান সম্পাদক মনির হোসেন, কার্য নির্বাহী সদস্য আনিসুর রহমান সুজন, এম.এম. কামাল, শাহ আলম খান, মোঃ জাবেদ হোসেন, সাধারন সদস্য মাওলানা সাইফুল্লাহ, মোঃ মাসুদুর রহমান, মোঃ আরিফুল ইসলাম প্রমূখ।
পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী ফুলেল শুভেচ্ছায় জেলা সাংবাদিক ক্লাবের নেতৃবৃন্দকে বরণ করে নিয়ে সকলের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’