বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহমাহমুদপুরে স্বামী কর্তৃক ১ সন্তানের জননীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ৫:৫২ পিএম
শাহমাহমুদপুরে স্বামী কর্তৃক ১ সন্তানের জননীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে নেশাগ্রস্থ স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড লোধেরগাঁও মিজি বাড়ির ওচমান মিজির ছোট মেয়ে রুমা আক্তার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ বছর আগে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিমলেরগাঁও বৈদ্য বাড়ির আবুল কালাম বৈদ্যর পুত্র মোহাম্মদ মানিক এর সাথে একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড লোধেরগাঁও মিজি বাড়ির ওচমান মিজির ছোট মেয়ে রুমা আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসার জীবনে দুই বছরের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
মোহাম্মদ মানিক বৈদ্য বর্তমানে টঙ্গী উত্তরখান বড় বাগ এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন।
স্ত্রী রুমা আক্তার জানান, তার স্বামী ঐ এলাকার বিভিন্ন দুষ্ট প্রকৃতির লোকের সঙ্গে মিশে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তিনি বিয়ের পর বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করে তাকে নির্যাতন করে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে পর্যায়ক্রমে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীকে কিছু টাকা এনে দেন স্ত্রী রুমা আক্তার।
গত ৩ জানুয়ারি রাতে তাদের সন্তানকে প্যান্ট পড়ানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপকভাবে শারীরিক নির্যাতন করে রক্তাক্ত জখম করেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় আনেন। পরদিন বুধবার (৪ জানুয়ারি) স্বামী মানিকের মোটরসাইকেল দিয়ে চাঁদপুর সদরের মহামায়া বাজারে এনে পৌঁছে দেন। আর তাদের সন্তান তার দাদা-দাদীর কাছেই রেখে আসেন। পরে রুমা আক্তারের পরিবারের লোকজন মেয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নেন। রুমা আক্তার আরো বলেন, তার স্বামী মানিক প্রায় সময়ই তাকে মারধর করেন। এর আগেও কয়েকবার শালিসি বৈঠক হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তারপরও তিনি এমন কর্মকাণ্ড করেই যাচ্ছেন।
উক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মোহাম্মদ মানিক জানান, আমার স্ত্রী আমার সাথে সবসময়ই মুখে মুখে তর্ক করতো। সে একবার তার মায়ের কথা মত একটি অবুঝ শিশুকে রেখে তার মায়ের সাথে চলে যায়। তার মা ও তার কথাবার্তা খুবই উশৃংখল। সেদিন রাতে সে আমার সাথে অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলে আমাকে ক্ষিপ্ত করলে রাগের মাথায় তাকে কিছুটা মারধর করি। পরে আমার মা ও ভাই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আনেন। এবং পরদিন তার বাবার এলাকায় তাকে পৌঁছে দেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাচ্চা তার কাছে নিরাপদ নয়, তাই আমার সন্তানকে আমার কাছেই রেখে দিয়েছি। তবে আমি তিক্ত হয়েই এমনটা করেছি।
নির্যাতনের শিকার রুমা আক্তারের মা জানান, বিভিন্ন সময় যৌতুক নিয়েও ক্ষান্ত হয়নি মেয়ের জামাই মানিক। মঙ্গলবার রাতে আমার মেয়েকে মারধরের ব্যাপক আঘাতে মাথা ফেটে যায়। পরে সেলায় করা হয়েছে। এমন অবস্থায় আমার মেয়ে তার শিশুসন্তানকে নিয়ে কোথায় দাঁড়াবে।
এর আগেও কয়েকবার তাকে নিয়ে বিচার বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে শাহমাহমুদপুরের ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি বলেন, তিন বছরের সাংসারিক জীবনে তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কয়েকবার শালিসি বৈঠক করা হয়েছে। তবে গত বুধবার মানিক তার স্ত্রীকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসলে তার স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলি।
তবে এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের স্বার্থে উভয় পক্ষ বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। যেভাবে ভালো হয় সেভাবেই করুক।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital