কচুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি ঘর পুড়ে ছাই; ৮০ সদস্যের মানবেতর জীবন যাপন
কচুয়া থেকে ফিরে সাইফুল ইসলাম সিফাত: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের দোঘর মুন্সী বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৩ বসতঘরসহ ২৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় মুন্সী বাড়ির নবীর হোসেনের ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এর পরে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য ঘরগুলোতে।

খবর পেয়ে কচুয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয়রা প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
স্থানীয়রা জানায়, আগুন লাগার পর পরই এলাকাবাসী এসে মহিলা, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নিলেও বসত ঘরের কোন মালামালই সরাতে পারেনি। বাদ পড়েনি নতুন বছরের পাওয়া স্কুলের বইগুলোও।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান শিশির, ইউএনও মো. নাজমুল হাসান, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল। এছাড়া রাতেই ইউএনও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র ও খাবার বিতরণ করেন।

বিকেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান শিশির ৪ বস্তা চাউল, ১ বস্তা মুশুরীর ডাল, ২২ লিটার সয়াবিন তৈল বিতরণ করেন।
স্থানীয় সাংসদ ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর এমপির পক্ষ্যে ৫০টি মোটা কম্বল দেয়া হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ্য থেকে খোলা হয়েছে মানবিক সহায়তা ডেস্ক। সেখানে আশ পাশের গ্রামবাসীরা যার যার সামর্থনুযায়ী পরিধানের বস্ত্র, হাড়ি পাতিল সহ নগদ অর্থ জমা দিচ্ছেন। স্থানীয় যুব ও ছাত্র সমাজের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ৮০ জন সদস্যের জন্য তিন বেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো হচ্ছে, দিনমজুর নবীর হোসেন, মোশারফ হোসেন, হোসেন, আব্দুল করিম, আব্দুর রশিদ, শাখাওয়াত হোসেন, শ্রমিক বিল্লাল হোসেন, সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান, বাহরাইন প্রবাসী ইয়াসীন হোসেন, ভুইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিএসসি, দিনমজুর জাসেদ ও ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান।

প্রবাসী মিজুনুর রহমানের স্ত্রী জানান, বিকট একটি শব্দ শুনে ঘর থেকে আমার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে বের হয়ে পড়ি। বাহিরে এসে দেখি আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো বাড়ি লাল আভায় পরিণত হয়েছে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে বাঁশ ঝাঁড়ে আশ্রয় নেই। কিন্তু সেখানেও আগুনের তাপ চলে আসায় খাল পেরিয়ে বিলে আশ্রয় নেই। তারপর আর কিছু মনে নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিধানের বস্ত্র আর সেলফোনটি ছাড়া কিছুই সরাতে পারিনি।
আগুন নেভাতে সহযোগীতাকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী মানিক জানান, কেউ হতাহত না হলেও পুরো বাড়িটি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি। এক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছেন। আমাদের গ্রামের সকল বয়সীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি ও বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কিভাবে সেটা আমরা এখনো খুজে পাইনি। তবে এই বাড়িতে ১৯টি পরিবারের বসবাস।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য ইউসুফ জানান, শুধু নগদ টাকা পুড়েছে ৮/৯ লাখ। ১০-১২ ভরি স্বর্ণ পুড়েছে। এগুলো প্রায় মাস্টার চাচার (রফিকুল ইসলাম বিএসসি)। আমরা প্রাথমিকভাবে সকল ঘর ও ক্ষয়ক্ষতিস্থ পরিবারের সাথে আলাপ করে পরিমাপ করে দেখেছি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সোয়া কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য মিজান বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম, আমার ঘরে স্ত্রী ও মা থাকতেন। ঘটনার দিন আমার স্ত্রী বেড়াতে শ্বশুরালয় গেছেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আমার মাকে উদ্ধার করেছেন।
সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন কচুয়া সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহেল জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে দ্রুত পূর্ণবাসন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সকলের হাতকে প্রসারিত করতে হবে। আমরা তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছি। সেখানে সকল পেশার মানুষ তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে নগদ অর্থ সহায়তা করছে। আমরা সরকারী সহযোগীতার পাশাপাশি প্রবাসীদের সহযোগীতা কামনা করছি।
কচুয়া উপজেলা ফায়ার স্টেশন অফিসার মাহতাব মন্ডল জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এতে তাদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়।
তবে আমরা এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করতে পারিনি।








