রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে কাবিটার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১:১৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে কাবিটার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নাম মাত্র কাজ করায় স্থানীয় লোকজনের চাপের মূখে কাজ বন্ধ করে চলে যায় চেয়ারম্যানের মনোনীত লোকজন। এ নিয়ে গত ৩১ জানুয়ারী মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন ভুক্তভোগীরা। এসময় কাজের গুনগত মান নিয়ে বিরোপ মন্তব্য করেন তারা।
জানাযায়, উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের শোল্লা-পাটওয়ারী বাজার সড়কের জানে আলমের বাড়ির সামনে থেকে বেপারী বাড়ি অভিমুখে রাস্তার ফ্লাট সলিং করে সিসি ঢালাই করার প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু উক্ত কাজে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাটির উপর নিম্নমানের মালামাল দিয়ে ডালাই কাজ শুরু করে। এসময় স্থানীয় লোকজন বাঁধা দিলে তাদের উপর চড়াও হন চেয়াম্যানের ভাই ইমাম হোসেনসহ কয়েকজন। পরে স্থানীয় লোকজনের চাপের মূখে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন তারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাযায়, ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার কাবিটা প্রকল্পে কাজ এটি। রাস্তাটি ২৬০ মিটার দৈর্ঘ্য প্রস্থ ৭ মিটার করার  কথা রয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি করা হয় ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈকত মোল্লাকে। কাজের প্রথম ধাপের ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও প্রকল্পের সভাপতি নিজেও যানেনা কবে থেকে কাজ শুরু হয়েছে। কাজটি পরিচালনা করেন চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ইমাম হোসেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন, ইয়ামিন, ফয়সাল ও আবু তাহের বলেন, এই কাঁচা রাস্তাটি উপরে কোন প্রকার কাজ না করে নিম্নমানের ইটের কনা দিয়ে ঢালাই শুরু করা হয়। পাশের এজিন পর্যন্ত লম্বা করে দিয়ে কোন রকম দায় সাড়া ভাবে করে যাচ্ছেন। আমরা বাঁধা দিলে তারা আমাদের উপর চড়াও হয়। আমরা বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা চাই সঠিক ভাবে রাস্তার কাজটি সম্পূর্ণ হোক।

স্থানীয়রা আরো জানায়, ইতিপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের অধিনে যতো গুলো উন্নয়ন কাজ হয়েছে, একটা কাজেরও গুনোগত মান সঠিক হয়নি এবং যত গুলো রাস্তার সলিং করা হয়েছে, বেশি সংখ্যক রাস্তার অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না।

Model Hospital
প্রকল্পের সভাপতি ও স্থানীয় মেম্বার সৈকত মোল্লা বলেন, আমি প্রকল্পের সভাপতি, আমি জানিনা কবে থেকে কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় লোকজন বলেছে কাজে অনিয়ম হচ্ছে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দায়সারা ভাবে কাজ করছে চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ইমাম হোসেন। আমি হট্টগোল দেখে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি।

চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ইমাম হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেই ভাবে উপজেলা থেকে কাজ করতে বলেছে সেই ভাবে কাজ করছি। কোন কিছু জানার থাকলে আমার ভাই চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের কাছ থেকে জানেন। তিনি আরো বলেন, কাজ করার সময় ইউপি সচিব আমির ভাই দেখে গেছেন। আমার কাজে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি।

চেয়াম্যান মহসিন হোসেনকে তার অফিসে গিয়ে না পেয়ে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মিলটন দস্তিদার বলেন, কাজ করার পূর্বে এই কাজ বাবদ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি (চেয়ারম্যান) কাজ করার পূর্বে আমাকে জানালে আমি আমার অফিসের লোক পাঠাতাম, কিন্তু তিনি কাজে অনিয়ম করার জন্য আমাদের রাখেননি। কি ভাবে কাজ করার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রথমমত রাস্তা খুড়ে দু’পাশে ইট খাড়া করে এজিন দিবে। এরপর বালি ও ইট দিয়ে সম্পন্ন রাস্তা  সলিং করবে এবং সিমেন্ট বালি ও কংক্রিট দিয়ে ডালাই দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমুন নেছা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি এবং আগামী কাল ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কটি দেখবো।

শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
শাহরাস্তিতে সরকারি সড়কের দুই পাশে পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে মালামাল রাখার দায়ে ৫ ব্যবসায়ীকে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) শাহরাস্তি পৌরশহরের ঠাকুরবাজার ও কালীবাড়ি বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে এ দণ্ড দেওয়া হয়।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ওই দুটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখছিলেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে স্টিলের সাইনবোর্ড স্থাপন করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে বাজার এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের পাশে মালামাল রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে অভিযুক্ত ৫ ব্যবসায়ীকে অভিযানে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ১০৯ ধারায় ৫টি মামলায় এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়৷ একই সঙ্গে সরকারি সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তায় রাখা মালামাল নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, “সরকারি রাস্তা ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং বাজারের যানজট নিরসনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে মালামাল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে আবার রাস্তা দখল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশ ও উপজেলা আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।