সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে ইমামদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:৪৮ পিএম
চাঁদপুরে ইমামদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর সদর উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন মসজিদের খতিব ও ইমামদের সাথে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি মতবিনিময় করেছেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের কদমতলাস্থ শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে সকল জায়গায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে পাঠ্য বই নিয়ে। অথচ বই সম্পর্কে না জেনে, না পড়ে বানোয়াট কথা ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। বইয়ের মধ্যে স্পষ্টভাবে বলা আছে বানর থেকে মানুষ হয় নাই। সেখানে শিক্ষার্থী শিক্ষককে প্রশ্ন করছেন আর শিক্ষক তার উত্তর দিয়েছেন-বানর থেকে মানুষ হয় নাই।

তিনি বলেন, নতুন পাঠক্রমে মোট ২৬টি বই তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে ২টি বই নিয়ে কথা উঠেছে। সেই বইয়ে নানা আপত্তির প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করেছি। প্রয়োজনে নিরীক্ষণ করে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হবে।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, বইয়ের মাধ্যমে ইসলাম ধ্বংস করে দিয়েছে-এমন গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলামের এমন কোনো ক্ষতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনা করেননি। বরং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের অনেক খেদমত করেছেন। তিনি বলেন, একজন আলেম হচ্ছেন জ্ঞানী লোক। কিন্তু একজন আলেম নামে পরিচিত, তিনি আমার সম্পর্কে না জেনে কদর্য এবং অশালীন কথা বলেছেন। আমিও তো একজন মুসলিম নারী। আমিও তো ধর্ম পালন করি। ইসলামে কী এমন বলা আছে যে, কাউকে নিয়ে উপহাস করা?

জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) ও জেলা জাতীয় ইমাম সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মোঃ কেফায়েত উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ মোশারফ হোসাইন।

উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ রুহুল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী বেপারী, বড়স্টেশন জামে মসজিদের খতিব মুফতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ঐতিহাসিক বেগম জামে মসজিদের খতিব মুফতি মোঃ মাহবুবুর রহমান, জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মোঃ আবদুর রহমান গাজী, সদর উপজেলা জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওঃ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মাওঃ গাজী মোঃ আবু হানিফ, সদর উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতির সভাপতি পীরজাদা মাওলানা খাজা জুবায়েরসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবগণ।

ইফার ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওঃ মোঃ সানাউল্লাহ। পবিত্র নাতে রাসুল সাঃ পরিবেশন করেন মাওলানা আব্দুল খালেক।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।