বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে আধ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতাল পরিচালক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০২৩, ১:১৪ পিএম
চাঁদপুরে আধ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতাল পরিচালক আটক
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর শহরের আব্দুল করিম পাটওয়ারী সড়কের চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় দুই নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক মোরশেদ আলমকে নবজাতকদের স্বজনরা মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে।

বুধবার (৮ মার্চ) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এতে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

নবজাতকদের স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার রাত ৮টার দিকে সিজারের পর হাসপাতালের চতুর্থ তলায় চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার বাকালী পট্টির ভ্যানচালক শাহজাহান মিয়ার দুই দিন বয়সী নবজাতক চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মারা যায়। অন্যদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নরমাল ডেলিভারির সময় স্থানীয় বকাউল বাড়ী রোডের সন্তু বেপারীর নবজাতকের মৃত্যু হয়।

ভ্যানচালক শাহজাহান বলেন, ‘সোমবার আমার স্ত্রীর (সুফিয়া বেগম) সিজারের মাধ্যমে কন্যা শিশুর জন্ম হয়। জন্মের পর থেকে সুস্থই ছিল। দুপুরে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তারা চিকিৎসক দেখিয়ে বলছে পেটে গ্যাস জমেছে। ওষধ দেয়ার পরও সুস্থ হয়নি। পরে রাতে মারা যায়।’

Model Hospital

তিনি অভিযোগ করেন, ‘শুধুমাত্র আমার শিশুরই মৃত্যু হয়নি। আমার স্ত্রীর অবস্থাও খারাপ। তার ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার দিলেও নার্সদেরকে পাওয়া যায়নি। তাদের ফার্মেসি বন্ধ থাকে, কোনো ওষধ পাওয়া যায় না।’

শাহজাহানের স্বজন জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সুফিয়ার প্রথম সন্তানের পর দুটি সন্তান জন্মের পর মারা যায়। এটি চতুর্থ সন্তান। অসহায় ও গরীব হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সিজার করে। কিন্তু তাদের অবহেলার কারণে বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। তারা হাসপাতাল না, কসাইখানা খুলে বসেছে। কোনো চিকিৎসক নাই, নার্স নাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

অপর নবজাতকের বাবা সন্তু বেপারী বলেন, ‘দুপুরে (বুধবার) আমার স্ত্রী হীরা আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমি তাদেরকে বলেছি নরমাল ডেলিভারিতে সমস্যা হলে সিজার করেন। তাদের হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক নাই, তারা কোনো চিকিৎসক ডেকেও আনে না। হাসপাতালে থাকা আমার স্বজনরা বলেছে পেটের মধ্যে চেপে ধরে আবার সন্তানকে তারা হত্যা করেছে।’

হীরা আক্তারের বোন জামাতা সফিকুর রহমান বলেন, ‘বিয়ের ১১ বছর পর এই প্রথম সন্তান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিক সেবা দিতে না পারায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। মা হীরা এখনো জানেন না তার সন্তান মৃত। তাকে জানানো হয়নি।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ওটি ইনচার্জ মোরশেদ আলম স্বীকার করেন তিনি ও নার্স আকলিমা গৃহবধূ হীরা আক্তারের নরমাল ডেলিভারি করেছেন। তবে কীভাবে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তফা বলেন, ‘পরিচালক মোরশেদের বিরুদ্ধে দুই পরিবারের অভিযোগ। তাই তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।’

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আবদুর রশিদ বলেন, ‘অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital